এসআইআর বিতর্কে সিইসিকে গ্রেপ্তারের দাবি মমতার
- আপডেট সময় ১২:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 23
ভারতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশের পর বিরোধী দলগুলো কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সময়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে বক্তব্য দিয়েছেন।
বুধবার ভোট চুরির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দেন কংগ্রেস এমপি ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ‘ভোট চুরি ভারতীয় জনগণের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ এবং আমাদের সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত।’ এ বিষয়ে একটি ভিডিও বার্তাও প্রকাশ করেন তিনি।
এদিন বিকালে ফেসবুক লাইভে এসে মমতা ব্যানার্জী অভিযোগ করেন, বিধানসভা নির্বাচনের ৭-৮ মাস আগে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে তাকে হারানোর উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। তার দাবি, এই প্রক্রিয়ায় শুধু পশ্চিমবঙ্গেই ৯২ লাখ ভোটারের নাম বাদ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
মমতা আরও অভিযোগ করেন, এরপর ইভিএম হাইজ্যাক এবং আলিপুরে ইভিএমে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকারের যাদের মদদদাতা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
জ্ঞানেশ কুমার বিজেপির ‘ইগো’ সন্তুষ্ট করতে এবং নিজের পরিবারকে সুবিধা পাইয়ে দিতে এ কাজ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন মমতা।
এসআইআরকে কটাক্ষ করে ‘স্পেশাল ইনটেন্সিভ রুলিং পার্টি’ নামে উল্লেখ করেন তিনি। মমতার অভিযোগ, বিজেপি ও জ্ঞানেশ কুমার মিলে একটি ‘জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি’ তৈরি করেছেন। এর সঙ্গে সীমা খান্নার নামও উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, এই যৌথ উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ‘লুট’ করা হয়েছে। একইভাবে বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানাতেও জোর করে নির্বাচন জেতার অভিযোগ করেন তিনি।
মমতা বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যেসব ভোটারের নাম বাদ গেছে, তাদের নামসহ পুরোনো ভোটার তালিকা ফিরিয়ে দিতে হবে। যেসব রাজ্যে এসআইআরকে কেন্দ্র করে ইভিএম নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেসব রাজ্যে পুরোনো ভোটার তালিকার ভিত্তিতে নতুন করে ভোট আয়োজনের দাবিও জানান তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে গ্রেপ্তারের দাবিতে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান মমতা। তিনি বলেন, অন্য দলগুলো রাস্তায় নামলে তিনি তাদের সঙ্গে থাকবেন।
অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগের জবাবে বিজেপির এমপি সম্বিত পাত্র বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করছে। তার দাবি, জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে বিরোধীরা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে।
সম্বিত পাত্র আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে মতবিনিময় ও ভিন্নমত প্রকাশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। তার বক্তব্য, কমিশনারদের মধ্যে যোগাযোগ না থাকলে বিরোধীরাই আবার নির্বাচন কমিশনকে ‘স্বৈরাচারী’ কিংবা সরকারের ‘জী-হুজুর’-এর প্রতিষ্ঠান বলে অভিযোগ করত।
























