ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

শেরপুরের গারো পাহাড়ে আনারস চাষের সম্ভাবনায় নতুন দিগন্ত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:০৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫
  • / 568

ছবি সংগৃহীত

 

শেরপুরের গারো পাহাড় যেন এখন নতুন সম্ভাবনার আলোয় উদ্ভাসিত। এক সময় যেখানে অনাবাদি পড়ে থাকত পাহাড়ি জমি, আজ সেখানে আনারস চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের জীবনচিত্র। ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় আনারস চাষে এসেছে এক বিপ্লব।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা, সরকারি সহায়তা এবং বন্যহাতির আক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিলে গারো পাহাড়ের হাজার হাজার হেক্টর পতিত জমি হয়ে উঠতে পারে সোনার ফল—আনারসের বাগানে ভরপুর। এতে যেমন স্থানীয় অর্থনীতি সচল হবে, তেমনি বদলে যাবে এখানকার মানুষের জীবনমান।

আরও পড়ুন  শেরপুরের কাটাবাড়ী সীমান্তে বিদ্যুৎস্পর্শে বন্য হাতির মৃত্যু, উদ্বিগ্ন পরিবেশকর্মীরা

পাহাড়ি এই এলাকায় আগে শুধু কাসাভা আলু চাষ হতো, যার বাজারমূল্য কম থাকায় অধিকাংশ কৃষিজমি ছিল অনাবাদি। ফলে পরিবার চালাতে কৃষকদের ভরসা ছিল লাকড়ি কাটা, পাথর ভাঙা কিংবা বালু উত্তোলনের মতো কষ্টসাধ্য কাজ।

কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলেছে। কৃষকেরা আনারসসহ নানা ফলমূলের চাষ করে পাহাড়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাচ্ছেন। পশ্চিম বাকাকুড়া গ্রামের কৃষক জমশন ম্রং জানালেন, চার বছর আগে ১৮ বিঘা জমি লিজ নিয়ে আনারস চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি বছরে প্রায় ১৬ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করছেন।

তিনি বলেন, ‘হাতির আক্রমণ থাকলেও লাভে থাকি। আমার সাফল্য দেখে অনেকেই আগ্রহী হয়েছেন।’

জলডুবি জাতের আনারস চাষই এই অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মধুপুর ও রাঙ্গামাটি থেকে প্রথমে চারা সংগ্রহ করে এখন কৃষকেরা নিজেরাই চারা উৎপাদন করছেন। আশরাফুল আলম নামে একজন চাষি জানান, ‘১৮ বিঘা জমিতে দেড় লাখ আনারস চাষ করেছি। এই জাতের আনারস খুব মিষ্টি, ফলে বাজারে চাহিদাও বেশি।’

এদিকে আনারসের বাগানে পরিচর্যার কাজ করে আয় করছেন স্থানীয় বহু শ্রমিক। মো. বিজয় ও সবুর আলী জানান, ‘এখন আর লাকড়ি কাটতে হয় না, আনারস বাগানে কাজ করে আয় হয়।’

আনারস চাষে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও আছে বিশেষ করে বন্যহাতির আক্রমণ। স্থানীয়দের দাবি, এ সমস্যার সমাধান হলে গারো পাহাড় হবে আনারস উৎপাদনের অন্যতম বৃহৎ অঞ্চল।

আসলে, গারো পাহাড়ের মাটি ও জলবায়ু আনারস চাষের জন্য উপযোগী। এখন প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহযোগিতা তাহলেই পাহাড়ে কৃষির নতুন ইতিহাস রচনা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

শেরপুরের গারো পাহাড়ে আনারস চাষের সম্ভাবনায় নতুন দিগন্ত

আপডেট সময় ০৩:০৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫

 

শেরপুরের গারো পাহাড় যেন এখন নতুন সম্ভাবনার আলোয় উদ্ভাসিত। এক সময় যেখানে অনাবাদি পড়ে থাকত পাহাড়ি জমি, আজ সেখানে আনারস চাষে বদলে যাচ্ছে কৃষকের জীবনচিত্র। ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় আনারস চাষে এসেছে এক বিপ্লব।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা, সরকারি সহায়তা এবং বন্যহাতির আক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিলে গারো পাহাড়ের হাজার হাজার হেক্টর পতিত জমি হয়ে উঠতে পারে সোনার ফল—আনারসের বাগানে ভরপুর। এতে যেমন স্থানীয় অর্থনীতি সচল হবে, তেমনি বদলে যাবে এখানকার মানুষের জীবনমান।

আরও পড়ুন  শেরপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কিশোরের

পাহাড়ি এই এলাকায় আগে শুধু কাসাভা আলু চাষ হতো, যার বাজারমূল্য কম থাকায় অধিকাংশ কৃষিজমি ছিল অনাবাদি। ফলে পরিবার চালাতে কৃষকদের ভরসা ছিল লাকড়ি কাটা, পাথর ভাঙা কিংবা বালু উত্তোলনের মতো কষ্টসাধ্য কাজ।

কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলেছে। কৃষকেরা আনারসসহ নানা ফলমূলের চাষ করে পাহাড়ের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাচ্ছেন। পশ্চিম বাকাকুড়া গ্রামের কৃষক জমশন ম্রং জানালেন, চার বছর আগে ১৮ বিঘা জমি লিজ নিয়ে আনারস চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি বছরে প্রায় ১৬ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করছেন।

তিনি বলেন, ‘হাতির আক্রমণ থাকলেও লাভে থাকি। আমার সাফল্য দেখে অনেকেই আগ্রহী হয়েছেন।’

জলডুবি জাতের আনারস চাষই এই অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মধুপুর ও রাঙ্গামাটি থেকে প্রথমে চারা সংগ্রহ করে এখন কৃষকেরা নিজেরাই চারা উৎপাদন করছেন। আশরাফুল আলম নামে একজন চাষি জানান, ‘১৮ বিঘা জমিতে দেড় লাখ আনারস চাষ করেছি। এই জাতের আনারস খুব মিষ্টি, ফলে বাজারে চাহিদাও বেশি।’

এদিকে আনারসের বাগানে পরিচর্যার কাজ করে আয় করছেন স্থানীয় বহু শ্রমিক। মো. বিজয় ও সবুর আলী জানান, ‘এখন আর লাকড়ি কাটতে হয় না, আনারস বাগানে কাজ করে আয় হয়।’

আনারস চাষে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও আছে বিশেষ করে বন্যহাতির আক্রমণ। স্থানীয়দের দাবি, এ সমস্যার সমাধান হলে গারো পাহাড় হবে আনারস উৎপাদনের অন্যতম বৃহৎ অঞ্চল।

আসলে, গারো পাহাড়ের মাটি ও জলবায়ু আনারস চাষের জন্য উপযোগী। এখন প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহযোগিতা তাহলেই পাহাড়ে কৃষির নতুন ইতিহাস রচনা সম্ভব।