নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা
- আপডেট সময় ০৬:৩০:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
- / 73
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় পাওনা মাত্র দুই হাজার টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে মিলন মিয়া (৩৫) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে উপজেলার দলপা ইউনিয়নের দলপা (কান্দাপাড়া) গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই জড়িত থাকার অভিযোগে মা ও ছেলেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত মিলন মিয়া দলপা গ্রামের আমজুদ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে ভাঙারি মালের ব্যবসা করতেন। অন্যদিকে আটক ব্যক্তিরা হলেন— একই গ্রামের মমিন মিয়ার স্ত্রী হাবিয়া বেগম (৫৫) এবং তার ছেলে ইমন মিয়া (২২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী মিলনের কাছে হাবিয়া বেগমের দুই হাজার টাকা পাওনা ছিল। বুধবার দুপুরে হাবিয়া বেগম সেই পাওনা টাকার তাগাদা দিতে মিলনের কাছে যান। টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে মিলনের সঙ্গে হাবিয়া বেগমের তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়।
এ সময় হাবিয়ার ছেলে ইমন মিয়া উত্তেজিত হয়ে ঘর থেকে দা এনে মিলনের গলার বাম পাশে সজোরে আঘাত করেন। এতে গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মিলন। পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত এলাকাবাসী অভিযুক্ত ইমন ও তার মা হাবিয়া বেগমকে তাৎক্ষণিকভাবে আটকে ফেলে। এ সময় খুনের দায়ে অভিযুক্ত ইমনকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা ও ছেলেকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদী মাকসুদ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মা ও ছেলে দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।






















