মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন
- আপডেট সময় ০৬:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
- / 69
মুক্তিযুদ্ধকে খাটো বা মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার চেষ্টা করা হলে প্রয়োজনে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর নন্দিয়াপাড়া বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে কোনোভাবেই অসম্মান করতে দেওয়া হবে না।
বিগত জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর একটি দল মুক্তিযুদ্ধকে কুক্ষিগত করে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করার মাধ্যমে দেশে লুটপাট, গণতন্ত্র হত্যা ও ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে আরেকটি দল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে নিজেদের পকেটস্থ করে সেখান থেকে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই ছেড়ে দেওয়া হবে এবং জনগণ ভোট দিয়ে যাদের নির্বাচিত করবে, তারাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।
ইশরাক হোসেন উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বারবার বাংলাদেশকে রক্তাক্ত করে বহু আন্দোলন হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে এ দেশের মানুষ আরও আন্দোলন করবে। তবে ১৯৭১ সাল ও মহান মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করে দেখলে শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিকেরা কোনোদিনই তা চেয়ে চেয়ে দেখবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্বাধীনতার বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে একটি টকশোতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর সঙ্গে মিরপুরের সংসদ সদস্য বাতেন প্রকাশ্যে ‘পাকিস্তান ভালো’ বলে মন্তব্য করেছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে কোনো আপস হবে না বলে তিনি জানান।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি এবং সমমনা দলগুলো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছে, যার ধারাবাহিকতায় শত শত হত্যাকাণ্ড ও গুম-খুনের ঘটনা ঘটেছে। তিনি দাবি করেন, ইলিয়াস আলীসহ বহু নেতার গুম হওয়ার ঘটনাগুলোই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে ত্বরান্বিত করার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
এই আন্দোলনে বাংলাদেশের আপামর জনগণের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। জুলাই মাস থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে কাজ করেছে এবং শুধুমাত্র ছাত্রদলেরই ১৪৮ জন পদধারী নেতা জীবন দিয়েছেন বলে তিনি তথ্য জানান।
সোনাইমুড়ীর এই মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এ.টি.এম. মোশারেফ হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


























