শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার
- আপডেট সময় ১২:২৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
- / 78
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানিকালে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা। বুধবার (৩ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এই মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বুধবার সকালে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। প্রথমে তাদের মহানগর হাজতখানায় রাখা হলেও বেলা পৌনে ১১টার দিকে পর্যায়ক্রমে তাদের আদালতে তোলা হয়। এরপর বেলা ১১টা ১০ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
শুনানির শুরুতে বিচারক প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এই মামলার সব সাক্ষীর দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান এবং তার কোনো বক্তব্য আছে কি না জানতে চান। জবাবে সোহেল রানা আদালতে অপরাধ স্বীকার করে বলেন, “আমি নির্দোষ স্যার। আমার সঙ্গে যে ছিল ডলার, তাকে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করিনাই তা-না, আমিও দোষ করেছি। আমারে মাফ করে দিয়েন, আমার একটা ছোটো ছাওয়াল আছে, আমার বউটা একদম নির্দোষ।” পরবর্তীতে বিচারক অপর আসামি স্বপ্না আক্তারের কাছে কিছু বলার আছে কি না জানতে চাইলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ।”
আসামিদের বক্তব্য গ্রহণের পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের দিন নির্ধারণ করার আবেদন জানান। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলুর পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুন শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর দ্রুততম সময়ে গত মঙ্গলবার মামলার মোট ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সমাপ্ত ঘোষণা করেন আদালত। এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।


























