ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
নির্বাচনের আগে যেভাবে একসঙ্গে কাজ করেছি, দেশ গঠনেও থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ‘২৯ বছর বয়সেই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য ব্যাকুল কেউ কেউ’: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী সালমান শাহ হ/ত্যা মা/ম/লায় গ্রে/প্তার ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ কলকাতায় মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার দাবি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চু*রির মা*ম*লায় তদন্ত প্রতিবেদন ৯৭ বার পেছাল হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রী সালমান শাহ হ/ত্যা মা*ম*লা, ডন আ*টক সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের ১০ নেতাকর্মীকে পি*টি*য়ে হাসপাতালে পাঠাল নি/ষি/দ্ধ ছাত্রলীগ ‘বিভ্রান্ত করে জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না’: প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সিভিল সার্জনকে বদলির নির্দেশ

সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প

এসকে আব্দুস সাকুর (উল্লাস)
  • আপডেট সময় ০৬:২৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • / 278

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ ইউরোপের ইতালীয় উপদ্বীপে অবস্থিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্র সান মারিনো বিশ্বের অন্যতম ছোট এবং প্রাচীন দেশ। এর আয়তন মাত্র ৬১ বর্গকিলোমিটার। চারদিক থেকেই ইতালি দ্বারা বেষ্টিত এই দেশের রাজধানীর নামও সান মারিনো। জনসংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজারের কাছাকাছি, যা একে ইউরোপের ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে স্থান দিয়েছে।

ইতিহাসের দিক থেকে সান মারিনোর জন্ম চতুর্থ শতকে। প্রচলিত মতে, খ্রিস্টান সাধক মারিনুস ৩০১ খ্রিস্টাব্দে এই রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। সেই থেকে দেশটি স্বাধীনতা বজায় রেখেছে। এ কারণে সান মারিনোকে বিশ্বের প্রাচীনতম টিকে থাকা প্রজাতন্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।

রাজনৈতিকভাবে সান মারিনো একটি সংসদীয় প্রজাতন্ত্র। দেশটির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে প্রতি ছয় মাস অন্তর দুইজন যৌথ রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হন। এই ব্যবস্থা বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল।

আরও পড়ুন  এল সালভাদর: ছোট দেশ, বড় ইতিহাস ও পরিবর্তনের গল্প

সান মারিনো তার মধ্যযুগীয় স্থাপত্য, পাহাড়ি দুর্গ এবং ঐতিহাসিক পরিবেশের জন্য পরিচিত। রাজধানী শহরটি একটি পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত, যেখান থেকে আশপাশের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। দেশটির বহু স্থাপনা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত।

অর্থনৈতিকভাবে সান মারিনো পর্যটন, ব্যাংকিং, ক্ষুদ্র শিল্প ও সেবাখাতের ওপর নির্ভরশীল। ছোট আয়তনের হলেও দেশটির জীবনমান তুলনামূলকভাবে উচ্চ। ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকার কারণে এর অর্থনীতি স্থিতিশীল।

নাগরিক জীবনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত। কম জনসংখ্যা এবং ছোট প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে সরকারি সেবাগুলো তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য।

ধর্মীয়ভাবে অধিকাংশ মানুষ রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান। ধর্মীয় ঐতিহ্য দেশটির সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে সান মারিনো অত্যন্ত জনপ্রিয়। মাউন্ট টিতানো পাহাড়, তিনটি ঐতিহাসিক দুর্গ এবং মধ্যযুগীয় পুরনো শহর পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। ইতালি ভ্রমণে আসা অনেক পর্যটক একদিনের সফরে সান মারিনো ঘুরে যান।

সব মিলিয়ে, সান মারিনো এমন একটি দেশ যেখানে ক্ষুদ্র ভৌগোলিক আকারের মধ্যেও হাজার বছরের ইতিহাস, রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একসঙ্গে মিলিত হয়েছে। বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্র হিসেবে সান মারিনো আজও স্বাধীনতা ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীক।

নিউজটি শেয়ার করুন

সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প

আপডেট সময় ০৬:২৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

দক্ষিণ ইউরোপের ইতালীয় উপদ্বীপে অবস্থিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্র সান মারিনো বিশ্বের অন্যতম ছোট এবং প্রাচীন দেশ। এর আয়তন মাত্র ৬১ বর্গকিলোমিটার। চারদিক থেকেই ইতালি দ্বারা বেষ্টিত এই দেশের রাজধানীর নামও সান মারিনো। জনসংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজারের কাছাকাছি, যা একে ইউরোপের ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে স্থান দিয়েছে।

ইতিহাসের দিক থেকে সান মারিনোর জন্ম চতুর্থ শতকে। প্রচলিত মতে, খ্রিস্টান সাধক মারিনুস ৩০১ খ্রিস্টাব্দে এই রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। সেই থেকে দেশটি স্বাধীনতা বজায় রেখেছে। এ কারণে সান মারিনোকে বিশ্বের প্রাচীনতম টিকে থাকা প্রজাতন্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।

রাজনৈতিকভাবে সান মারিনো একটি সংসদীয় প্রজাতন্ত্র। দেশটির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে প্রতি ছয় মাস অন্তর দুইজন যৌথ রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হন। এই ব্যবস্থা বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল।

আরও পড়ুন  হাইতি: সংগ্রাম, ইতিহাস ও টিকে থাকার এক অনন্য গল্প

সান মারিনো তার মধ্যযুগীয় স্থাপত্য, পাহাড়ি দুর্গ এবং ঐতিহাসিক পরিবেশের জন্য পরিচিত। রাজধানী শহরটি একটি পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত, যেখান থেকে আশপাশের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। দেশটির বহু স্থাপনা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত।

অর্থনৈতিকভাবে সান মারিনো পর্যটন, ব্যাংকিং, ক্ষুদ্র শিল্প ও সেবাখাতের ওপর নির্ভরশীল। ছোট আয়তনের হলেও দেশটির জীবনমান তুলনামূলকভাবে উচ্চ। ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকার কারণে এর অর্থনীতি স্থিতিশীল।

নাগরিক জীবনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত। কম জনসংখ্যা এবং ছোট প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে সরকারি সেবাগুলো তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য।

ধর্মীয়ভাবে অধিকাংশ মানুষ রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান। ধর্মীয় ঐতিহ্য দেশটির সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে সান মারিনো অত্যন্ত জনপ্রিয়। মাউন্ট টিতানো পাহাড়, তিনটি ঐতিহাসিক দুর্গ এবং মধ্যযুগীয় পুরনো শহর পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। ইতালি ভ্রমণে আসা অনেক পর্যটক একদিনের সফরে সান মারিনো ঘুরে যান।

সব মিলিয়ে, সান মারিনো এমন একটি দেশ যেখানে ক্ষুদ্র ভৌগোলিক আকারের মধ্যেও হাজার বছরের ইতিহাস, রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একসঙ্গে মিলিত হয়েছে। বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্র হিসেবে সান মারিনো আজও স্বাধীনতা ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীক।