ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :

বাংলাদেশকে এডিবির ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের ঘোষণা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • / 76

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রাধিকার খাতগুলোর অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল অর্থায়ন প্যাকেজ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

সোমবার (২৫ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সফররত এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই অর্থায়নের ঘোষণা দেন। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত আগের মূল্যেই বিদ্যুৎ : ডা. জাহেদ

বৈঠকে এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্ডা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ধাপে প্রবেশ করছে। তিনি জানান, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, প্রবৃদ্ধির নতুন উৎস তৈরি এবং সংকট মোকাবিলায় সক্ষম বহুমুখী অর্থনীতি গঠনে এডিবি বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে, যার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি সই করেছে এডিবি। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর সৃষ্ট চাপ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা যুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, এলএনজি, সার ও শিপিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকিং খাতেও চাপ বিদ্যমান রয়েছে বলে এডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, সরকার ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি জ্বালানি ও রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত অর্থায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কাজ করবে তারা।

এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি উদ্যোগের প্রস্তাব দেন এডিবি প্রেসিডেন্ট। এই উদ্যোগের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে মোট ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা প্রতি বছর প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার করে প্রদান করা হবে। এই দীর্ঘমেয়াদি প্যাকেজের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুষম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

এর পাশাপাশি মধ্যমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম সহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থাটির। এর ফলে বর্তমানের দুই বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক সহায়তা বেড়ে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে, যা বিনিয়োগভিত্তিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন জোরদার এবং এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়ায় সহায়ক হবে বলে এডিবির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন রূপরেখা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য দুই মিলিয়ন ডলারের আলাদা কারিগরি সহায়তা দেবে সংস্থাটি।

ঢাকা সফরকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন মাসাতো কান্ডা। উক্ত বৈঠকে দেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম, সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ, বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা এবং সরকারের অগ্রাধিকার খাতগুলোতে এডিবির সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া এডিবি প্রেসিডেন্ট দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন, যেখানে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা, পুঁজিবাজার উন্নয়ন এবং যৌথ অর্থায়নের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশকে এডিবির ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের ঘোষণা

আপডেট সময় ০৬:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

 

বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রাধিকার খাতগুলোর অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল অর্থায়ন প্যাকেজ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

সোমবার (২৫ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সফররত এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই অর্থায়নের ঘোষণা দেন। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত আগের মূল্যেই বিদ্যুৎ : ডা. জাহেদ

বৈঠকে এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্ডা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ধাপে প্রবেশ করছে। তিনি জানান, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, প্রবৃদ্ধির নতুন উৎস তৈরি এবং সংকট মোকাবিলায় সক্ষম বহুমুখী অর্থনীতি গঠনে এডিবি বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে, যার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি সই করেছে এডিবি। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর সৃষ্ট চাপ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা যুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, এলএনজি, সার ও শিপিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকিং খাতেও চাপ বিদ্যমান রয়েছে বলে এডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, সরকার ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি জ্বালানি ও রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত অর্থায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কাজ করবে তারা।

এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি উদ্যোগের প্রস্তাব দেন এডিবি প্রেসিডেন্ট। এই উদ্যোগের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে মোট ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা প্রতি বছর প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার করে প্রদান করা হবে। এই দীর্ঘমেয়াদি প্যাকেজের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুষম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

এর পাশাপাশি মধ্যমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম সহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থাটির। এর ফলে বর্তমানের দুই বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক সহায়তা বেড়ে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে, যা বিনিয়োগভিত্তিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন জোরদার এবং এলডিসি থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়ায় সহায়ক হবে বলে এডিবির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন রূপরেখা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য দুই মিলিয়ন ডলারের আলাদা কারিগরি সহায়তা দেবে সংস্থাটি।

ঢাকা সফরকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন মাসাতো কান্ডা। উক্ত বৈঠকে দেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম, সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ, বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা এবং সরকারের অগ্রাধিকার খাতগুলোতে এডিবির সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া এডিবি প্রেসিডেন্ট দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন, যেখানে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা, পুঁজিবাজার উন্নয়ন এবং যৌথ অর্থায়নের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।