ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে বাড়বে করদাতা: উপদেষ্টা ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ঢাকায়

প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৩:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • / 347

ছবি: সংগৃহীত

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের সফরে দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে সরকার ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ও কৌশলগত ভারসাম্যের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, সোমবার (১ জুন) মালয়েশিয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিশ্চিত করে চিঠি পাঠিয়েছে। সফরের দ্বিতীয় দিন ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত ও চীনের পক্ষ থেকেও তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং ভারত-চীন প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে প্রথম সফরের গন্তব্য নির্ধারণে সতর্ক অবস্থান নেয় সরকার। এ কারণে দিল্লি বা বেইজিংয়ের পরিবর্তে তৃতীয় একটি দেশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  রাসিক প্রশাসকের ফ্রান্স সফর বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী

সফরের কর্মসূচি ও আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর কেবল প্রটোকলগত বিষয় নয়; এটি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রতিফলন। সেই বিবেচনায় ভারত বা চীনের পরিবর্তে মালয়েশিয়াকে প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে নির্ধারণ করাকে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। একপর্যায়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে। অতীতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সৌদি আরব সফরের নজিরও রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে সেই পরিকল্পনা আর এগোয়নি। একই সময়ে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর সার্কভুক্ত কোনো দেশে, বিশেষ করে ভুটানে হতে পারে কি না, তা নিয়েও সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত এপ্রিল থেকে চীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বেইজিং সফরের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিল। ৬ মে বেইজিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের বিষয়টি আলোচনায় আসে। সেখানে জুনের শেষ সপ্তাহে তাকে বেইজিং সফরের আমন্ত্রণ জানানোর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। পরে ২৩ মে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র ঢাকায় পৌঁছায়।

চীনের পক্ষ থেকে ২৩ থেকে ২৬ জুন সফরের প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর কোথায় হবে, তা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। সেই সময় মালয়েশিয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। কারণ, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই টেলিফোনে শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

এ প্রেক্ষাপটে ভারত ও চীনের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বাস্তবতা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও জনপরিসরের সম্ভাব্য সমালোচনা বিবেচনায় নিয়ে মালয়েশিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটির আগে ২৪ মে বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য সফর নিয়ে যোগাযোগ শুরু করে। পরে দেশটির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। এরপর ১ জুন কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে ২১ ও ২২ জুন প্রধানমন্ত্রীর সফরের আমন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়।

সফরের আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত না হলেও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:০৩:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২১ ও ২২ জুন দুই দিনের সফরে দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে সরকার ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ও কৌশলগত ভারসাম্যের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, সোমবার (১ জুন) মালয়েশিয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিশ্চিত করে চিঠি পাঠিয়েছে। সফরের দ্বিতীয় দিন ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত ও চীনের পক্ষ থেকেও তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং ভারত-চীন প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে প্রথম সফরের গন্তব্য নির্ধারণে সতর্ক অবস্থান নেয় সরকার। এ কারণে দিল্লি বা বেইজিংয়ের পরিবর্তে তৃতীয় একটি দেশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  মালয়েশিয়ায় ৮৭ বাংলাদেশি আটক

সফরের কর্মসূচি ও আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর কেবল প্রটোকলগত বিষয় নয়; এটি নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিরও প্রতিফলন। সেই বিবেচনায় ভারত বা চীনের পরিবর্তে মালয়েশিয়াকে প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে নির্ধারণ করাকে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। একপর্যায়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে। অতীতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সৌদি আরব সফরের নজিরও রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে সেই পরিকল্পনা আর এগোয়নি। একই সময়ে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর সার্কভুক্ত কোনো দেশে, বিশেষ করে ভুটানে হতে পারে কি না, তা নিয়েও সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত এপ্রিল থেকে চীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বেইজিং সফরের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিল। ৬ মে বেইজিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের বিষয়টি আলোচনায় আসে। সেখানে জুনের শেষ সপ্তাহে তাকে বেইজিং সফরের আমন্ত্রণ জানানোর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। পরে ২৩ মে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র ঢাকায় পৌঁছায়।

চীনের পক্ষ থেকে ২৩ থেকে ২৬ জুন সফরের প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর কোথায় হবে, তা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। সেই সময় মালয়েশিয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। কারণ, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই টেলিফোনে শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

এ প্রেক্ষাপটে ভারত ও চীনের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বাস্তবতা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও জনপরিসরের সম্ভাব্য সমালোচনা বিবেচনায় নিয়ে মালয়েশিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটির আগে ২৪ মে বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য সফর নিয়ে যোগাযোগ শুরু করে। পরে দেশটির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। এরপর ১ জুন কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে ২১ ও ২২ জুন প্রধানমন্ত্রীর সফরের আমন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়।

সফরের আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত না হলেও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।