ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে দুই বছর সময় লাগবে: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৭:১৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
- / 84
বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া ঋণাত্মক ও ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করে একটি টেকসই অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে আরও অন্তত দুই বছর সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ শনিবার (১৬ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৭ তলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বড় ধরনের বৈশ্বিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এই সংকটের কারণে শুধু জ্বালানি খাতেই আগামী অর্থবছরের বাজেটের ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়ে গেছে। এর বাইরে বিদ্যুৎ খাত সচল রাখা এবং বিগত আমলের বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেই গত দুই মাসে আরও ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।” তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, সব মিলিয়ে দেশের জাতীয় অর্থনীতি বর্তমানে বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে।
অর্থনৈতিক এই টানাপোড়েনের মধ্যেও জনকল্যাণমূলক খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “অর্থনীতি ভালো অবস্থানে না থাকলেও মানুষের মৌলিক চাহিদার কথা বিবেচনা করে আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হবে, যাতে হতদরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পায়।” বিগত পতিত সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দের সিংহভাগই লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি জানান, বর্তমান সরকার শুধু বরাদ্দ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করবে না, বরং সেই অর্থ যথাযথভাবে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে মনিটরিং বা তদারকি করবে।
মেডিক্যাল শিক্ষার মান ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আগের সরকারগুলোর সময়ে মেডিক্যাল কলেজগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার কোনো স্বায়ত্তশাসিত বা পেশাদার প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করবে না। কারণ যোগ্যতা ছাড়া কেউ ভর্তি হলে বা শিক্ষার মান নষ্ট হলে গোটা রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামো নিশ্চিত না করে হুট করে আসনসংখ্যা না বাড়ানোর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার’ বা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী একটি যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, “সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় দরিদ্র রোগীরা চিকিৎসা পান না। তাই দরিদ্র রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা করা হবে। রোগীরা সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেবেন এবং তার যাবতীয় বিল সরাসরি সরকার পরিশোধ করবে।” এর পাশাপাশি দেশে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের ঘাটতি দূর করতে নতুন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা শিক্ষার ওপর জোর দেন তিনি।


























