ঢাকার প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ হচ্ছে অটোরিকশা
- আপডেট সময় ০৩:৩৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
- / 18
রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি সরকারের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও আলোচনা হয়েছে।
এসব আলোচনায় রাজধানীর সড়কে অটোরিকশার আধিক্য, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। যদিও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় অংশ নেওয়া পক্ষগুলো অন্তত প্রাথমিকভাবে ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছে।
আগামী মাসে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই বৈঠকের পর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই প্রধান সড়কে এসব যানবাহনের চলাচল বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেই আসবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সরকারের অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রথম ধাপে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরানো হবে। পরে পর্যায়ক্রমে পুরো শহরে এর চলাচল নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। আগামী মাসের ১৫ তারিখের পর এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে এআইভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা চালুর পর সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে চলাচল, স্টপলাইন ভঙ্গ এবং হঠাৎ লেন পরিবর্তনের মতো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা কমেছে।
প্রযুক্তির মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করে ই-প্রসিকিউশনের আওতায় আনা হচ্ছে, ফলে অনেক চালকের মধ্যে নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বেড়েছে।
তবে ট্রাফিক বিভাগের দাবি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা যাচ্ছে না। কারণ এসব যানবাহনের অনেকগুলোর নিবন্ধন নেই, নম্বরপ্লেট নেই এবং চালকদেরও প্রয়োজনীয় লাইসেন্স থাকে না।
ফলে ক্যামেরায় আইন ভঙ্গের ঘটনা ধরা পড়লেও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জটিল হয়ে পড়ে।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অটোরিকশার চলাচল নিয়ে পরিচালিত পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, উল্টো পথে চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের প্রবণতা এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
এ কারণে রাজধানীর সড়কে কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে মনে করছে বিভাগটি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অটোরিকশার কারণে শুধু যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে না, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছেও উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অটোরিকশার বিষয়টি উঠেছিল।
তবে অন্যান্য বিষয় আলোচনায় থাকায় এ নিয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি জানান, আগামী মাসে সম্ভাব্য আরেকটি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সিদ্ধান্ত হলে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অতীতে প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হলেও জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তারপরও পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও মালিকানার তথ্য থাকায় প্রযুক্তিনির্ভর আইন প্রয়োগ সহজ হয়েছে। কিন্তু অটোরিকশার ক্ষেত্রে একই সুবিধা না থাকায় আলাদা অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত জনবল না থাকাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জারি হয়নি। ফলে ঢাকার প্রধান সড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের বিষয়টি এখনও প্রস্তাবিত ও আলোচনাধীন পর্যায়েই রয়েছে।






















