ঢাকা ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে নেতানিয়াহুর, খুঁজছেন নতুন মিত্র সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার ববি হাজ্জাজের নিজ সন্তানের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, তথ্যের ঘাটতি ছিল মিডিয়ায় আমাকে টার্গেট করা হয়েছে, বললেন ইশরাক মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 58

ছবি: সংগৃহীত

আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, দেশে আইনের শাসন, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপি সরকারের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) চতুর্থ ধাপে দেশের আরও ১২টি জেলায় ডিজিটাল ‘ই-বেইলবন্ড’ (ইলেকট্রনিক জামিননামা) ব্যবস্থার ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

আসাদুজ্জামান বলেন, দেশের নাগরিকদের আর আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরে হয়রানির শিকার দেখতে চাই না। জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্দশার অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করাই বিএনপি সরকারের মূল অঙ্গীকার।

আরও পড়ুন  সংসদে আজ উঠছে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধকরণ বিল

তিনি বলেন, আগে ১২টি জটিল ধাপ কাটিয়ে জামিননামা আদালত থেকে কারাগারে পৌঁছানোর পড়ে আসামি মুক্তি পেতেন। এখন থেকে আইনজীবীরা যেকোনো স্থানে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে জামিননামা দাখিল করতে পারছেন।

বিচার ব্যবস্থার সুফল তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সর্বপ্রথম নারায়ণগঞ্জে এ কার্যক্রমের পাইলটিং চালু হওয়ার পর পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়াসহ ৭টি জেলায় এই ডিজিটাল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সফলভাবে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তিনবারে ১৬টি জেলায় পাইলটিং চালু হওয়ার পর ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ই-বেইলবন্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল জামিননামা সফলভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। নতুন করে আরও ১২টি জেলা যুক্ত হওয়ায় এখন বিচারিক প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে বলে আশা করেন মন্ত্রী।

বর্তমানে দেশের ২৮টি জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু হয়েছে। অবশিষ্ট জেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে ই-বেইলবন্ড চালু করা হবে বলেও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান।

মন্ত্রী আরও জানান, এ ডিজিটাল পাইলটিং কার্যক্রম চালুর ফলে জনগণের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে। আমরা আশা করছি এই কর্মসূচিকে জনগণের দোরগোড়ায় সফলভাবে পৌঁছে দিতে পারবো।

বিচারক ও বারের নেতাদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলারজট কমাতে কারাগারে থাকা আপসযোগ্য মামলাগুলো লিগ্যাল এইডে মধ্যস্থতার মাধ্যমে যতো দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। একটি ছোট মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকলে একদিকে সরকারের অর্থ অপচয় হয়, অন্যদিকে বড় অপরাধীরা অনেক সময় পার পেয়ে যায়।

মামলারজট কমানোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান ঘোষণা দেন, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ও কার্যকর পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি মামলার নিষ্পত্তি করতে পারবে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে তাদেরকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হবে।

এসময় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা সভাপতির বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেমুল কায়েস।

তাছাড়া অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ্, কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: শফিউল আযম, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

আপডেট সময় ০৪:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, দেশে আইনের শাসন, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপি সরকারের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) চতুর্থ ধাপে দেশের আরও ১২টি জেলায় ডিজিটাল ‘ই-বেইলবন্ড’ (ইলেকট্রনিক জামিননামা) ব্যবস্থার ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

আসাদুজ্জামান বলেন, দেশের নাগরিকদের আর আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরে হয়রানির শিকার দেখতে চাই না। জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্দশার অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করাই বিএনপি সরকারের মূল অঙ্গীকার।

আরও পড়ুন  নতুন সংসদের প্রথম দিনেই ১৩৩ অধ্যাদেশ পেশ

তিনি বলেন, আগে ১২টি জটিল ধাপ কাটিয়ে জামিননামা আদালত থেকে কারাগারে পৌঁছানোর পড়ে আসামি মুক্তি পেতেন। এখন থেকে আইনজীবীরা যেকোনো স্থানে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে জামিননামা দাখিল করতে পারছেন।

বিচার ব্যবস্থার সুফল তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সর্বপ্রথম নারায়ণগঞ্জে এ কার্যক্রমের পাইলটিং চালু হওয়ার পর পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়াসহ ৭টি জেলায় এই ডিজিটাল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সফলভাবে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তিনবারে ১৬টি জেলায় পাইলটিং চালু হওয়ার পর ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ই-বেইলবন্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল জামিননামা সফলভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। নতুন করে আরও ১২টি জেলা যুক্ত হওয়ায় এখন বিচারিক প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে বলে আশা করেন মন্ত্রী।

বর্তমানে দেশের ২৮টি জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু হয়েছে। অবশিষ্ট জেলাগুলোতেও পর্যায়ক্রমে ই-বেইলবন্ড চালু করা হবে বলেও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান।

মন্ত্রী আরও জানান, এ ডিজিটাল পাইলটিং কার্যক্রম চালুর ফলে জনগণের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে। আমরা আশা করছি এই কর্মসূচিকে জনগণের দোরগোড়ায় সফলভাবে পৌঁছে দিতে পারবো।

বিচারক ও বারের নেতাদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলারজট কমাতে কারাগারে থাকা আপসযোগ্য মামলাগুলো লিগ্যাল এইডে মধ্যস্থতার মাধ্যমে যতো দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। একটি ছোট মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকলে একদিকে সরকারের অর্থ অপচয় হয়, অন্যদিকে বড় অপরাধীরা অনেক সময় পার পেয়ে যায়।

মামলারজট কমানোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান ঘোষণা দেন, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ও কার্যকর পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি মামলার নিষ্পত্তি করতে পারবে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে তাদেরকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হবে।

এসময় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা সভাপতির বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেমুল কায়েস।

তাছাড়া অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ্, কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: শফিউল আযম, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম।