ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির শক্ত প্রতিশ্রুতি: ‘আমরা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হব না’

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫
  • / 311

ছবি: সংগৃহীত

 

অটোয়া, শুক্রবার: কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কানাডা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে না। ২৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর রাজধানী অটোয়ার রিডো হলের বাইরে সমবেত জনতার উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার হুমকি দিয়েছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে কার্নি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা কখনোই, কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হব না। আমরা আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় পরিচয় রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

আরও পড়ুন  ঢাকাকে ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

ব্যাংক অব কানাডা ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক গভর্নর কার্নি আরও বলেন, কানাডা চায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে যথাযথ সম্মান এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে কাজ করতে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর সরকার যৌথভাবে কাজ করার উপায় খুঁজে বের করবে।

মাত্র এক সপ্তাহ আগে লিবারেল পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হন কার্নি। দলের অভ্যন্তরীণ ভোটে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে তিনি বিজয়ী হন, যেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিনা ফ্রিল্যান্ড মাত্র ১১ হাজার ১৩৪ ভোট পান। লিবারেল পার্টির প্রেসিডেন্ট সচিত মেহরা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্নির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘোষণা দেন। তবে, কার্নির জন্য এটি একটি অনন্য রাজনৈতিক যাত্রা, কারণ তাঁর হাউস অব কমন্সে কোনো আসন নেই এবং এর আগে তিনি কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। ধারণা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই তিনি জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেবেন।

কানাডার অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক চাপ বাড়ছে। বিশেষত ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত বাণিজ্য শুল্ক কানাডার অর্থনীতিকে সংকটে ফেলতে পারে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, যদি এই শুল্ক দীর্ঘমেয়াদি হয়, তবে কানাডা মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে।

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে কানাডার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়া লাভজনক হবে।’ এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কার্নি কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ পাগলামি।’

এদিকে, দীর্ঘ প্রায় এক দশক দায়িত্ব পালনের পর জাস্টিন ট্রুডো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর বিদায়ের পর কানাডার নতুন নেতা হিসেবে কার্নির অভিষেক হলো, যিনি এখন দেশকে একটি নতুন পথের দিকে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত।

নিউজটি শেয়ার করুন

কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির শক্ত প্রতিশ্রুতি: ‘আমরা কখনো যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হব না’

আপডেট সময় ১০:৫৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫

 

অটোয়া, শুক্রবার: কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কানাডা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে না। ২৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর রাজধানী অটোয়ার রিডো হলের বাইরে সমবেত জনতার উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার হুমকি দিয়েছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে কার্নি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা কখনোই, কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হব না। আমরা আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় পরিচয় রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রী হয়ে তারেক রহমান থাকবেন কোথায়?

ব্যাংক অব কানাডা ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক গভর্নর কার্নি আরও বলেন, কানাডা চায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে যথাযথ সম্মান এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে কাজ করতে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর সরকার যৌথভাবে কাজ করার উপায় খুঁজে বের করবে।

মাত্র এক সপ্তাহ আগে লিবারেল পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হন কার্নি। দলের অভ্যন্তরীণ ভোটে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে তিনি বিজয়ী হন, যেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিনা ফ্রিল্যান্ড মাত্র ১১ হাজার ১৩৪ ভোট পান। লিবারেল পার্টির প্রেসিডেন্ট সচিত মেহরা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্নির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘোষণা দেন। তবে, কার্নির জন্য এটি একটি অনন্য রাজনৈতিক যাত্রা, কারণ তাঁর হাউস অব কমন্সে কোনো আসন নেই এবং এর আগে তিনি কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। ধারণা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই তিনি জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেবেন।

কানাডার অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক চাপ বাড়ছে। বিশেষত ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত বাণিজ্য শুল্ক কানাডার অর্থনীতিকে সংকটে ফেলতে পারে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, যদি এই শুল্ক দীর্ঘমেয়াদি হয়, তবে কানাডা মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে।

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে কানাডার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়া লাভজনক হবে।’ এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কার্নি কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ পাগলামি।’

এদিকে, দীর্ঘ প্রায় এক দশক দায়িত্ব পালনের পর জাস্টিন ট্রুডো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর বিদায়ের পর কানাডার নতুন নেতা হিসেবে কার্নির অভিষেক হলো, যিনি এখন দেশকে একটি নতুন পথের দিকে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত।