ঢাকাকে ‘ক্লিন ও গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় ১২:২২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 14
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে রাজধানী ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী (ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি) হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী পরিবেশবান্ধব ঢাকা গড়তে নাগরিক সম্পৃক্ততার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
রাজধানীর পরিবেশ রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজানোর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে একটি ‘জিরো বর্জ্য’ কেন্দ্রে রূপান্তরের জন্য কোরীয় বিনিয়োগে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোতে ল্যান্ডস্কেপিং ও সচেতনতামূলক গ্রাফিতির মাধ্যমে পরিবেশসম্মত আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মশক নিধন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সাপ্তাহিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
ঢাকার সবুজায়ন প্রকল্পের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো হবে।
এছাড়া ‘মিয়াওয়াকি’ পদ্ধতিতে নগর বনায়ন এবং রাস্তার রোড মিডিয়ান ও সড়ক দ্বীপে শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বন অধিদপ্তর ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে ইতিমধ্যে ৪১ হাজারের বেশি চারা রোপণ করা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বড় একটি অংশ ঢাকায় বাস্তবায়ন করা হবে।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় দূষণের উৎসগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন এবং নিয়মবহির্ভূত নির্মাণ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের অবৈধ ইটভাটা বন্ধে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে সেখানে খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ঢাকার নদী ও খাল উদ্ধারে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যাসহ চার নদীর দূষণ প্রকৃতি নির্ণয় করা হয়েছে। তরল বর্জ্য নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে এটি স্থাপন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

























