ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

সফলভাবে উৎক্ষিপ্ত আর্টেমিস-২; ৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানবজাতি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৫৯:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 19

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ৫৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ইস্টার্ন টাইম সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে চারজন নভোচারীকে নিয়ে সফলভাবে মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছে নাসার শক্তিশালী রকেট ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (SLS)। ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের মাধ্যমেই অর্ধশতাব্দী পর চন্দ্রপৃষ্ঠের খুব কাছ দিয়ে প্রদক্ষিণ করতে যাচ্ছে মানবজাতি।

নাসা জানিয়েছে, ১০ দিনের এই ঐতিহাসিক মিশনে অংশ নিয়েছেন তিনজন মার্কিন ও একজন কানাডীয় নভোচারী। এই অভিযানে অংশ নিয়ে বেশ কিছু নতুন রেকর্ড গড়ছেন তারা:
কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান: মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ভিক্টর গ্লোভার: প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে যাওয়ার ইতিহাস গড়ছেন।
ক্রিস্টিনা কোচ: প্রথম নারী হিসেবে চন্দ্রাভিজানে শামিল হয়েছেন।
জেরেমি হ্যানসেন: কানাডীয় মহাকাশ সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে এই মিশনে রয়েছেন।

উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিটের মাথায় রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহাকাশযান ‘ওরিয়ন’ সফলভাবে নির্ধারিত কক্ষপথে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে নভোচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথের চারপাশে অবস্থান করে মহাকাশযানটির জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থাও কারিগরি দিকগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা চন্দ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৪,৭০০ মাইল দূর দিয়ে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।

আরও পড়ুন  'বিশ্বজুড়ে বর্জ্যের সভ্যতা, আত্মবিনাশের পথে মানবজাতি': কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. ইউনূস

উৎক্ষেপণ শেষে নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, “ওরিয়ন মহাকাশযানের এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক মিশন। এই সফলতার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী চন্দ্রাভিজান ও মঙ্গলে যাওয়ার পরিকল্পনা সাজানো হবে। আমরা মহাকাশযানটির প্রতিটি অংশ নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।”

১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এই প্রথম মানুষ সরাসরি চাঁদের কক্ষপথের দিকে অগ্রসর হলো। এই মিশনটি সফল হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষের পদচিহ্ন পড়ার পথ আরও সুগম হবে। বিশ্বজুড়ে মহাকাশপ্রেমীরা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে মানবজাতির এক অনন্য অর্জন হিসেবে দেখছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

সফলভাবে উৎক্ষিপ্ত আর্টেমিস-২; ৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানবজাতি

আপডেট সময় ০২:৫৯:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ ৫৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ইস্টার্ন টাইম সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে চারজন নভোচারীকে নিয়ে সফলভাবে মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছে নাসার শক্তিশালী রকেট ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (SLS)। ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের মাধ্যমেই অর্ধশতাব্দী পর চন্দ্রপৃষ্ঠের খুব কাছ দিয়ে প্রদক্ষিণ করতে যাচ্ছে মানবজাতি।

নাসা জানিয়েছে, ১০ দিনের এই ঐতিহাসিক মিশনে অংশ নিয়েছেন তিনজন মার্কিন ও একজন কানাডীয় নভোচারী। এই অভিযানে অংশ নিয়ে বেশ কিছু নতুন রেকর্ড গড়ছেন তারা:
কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান: মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ভিক্টর গ্লোভার: প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে যাওয়ার ইতিহাস গড়ছেন।
ক্রিস্টিনা কোচ: প্রথম নারী হিসেবে চন্দ্রাভিজানে শামিল হয়েছেন।
জেরেমি হ্যানসেন: কানাডীয় মহাকাশ সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে এই মিশনে রয়েছেন।

উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিটের মাথায় রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহাকাশযান ‘ওরিয়ন’ সফলভাবে নির্ধারিত কক্ষপথে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে নভোচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথের চারপাশে অবস্থান করে মহাকাশযানটির জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থাও কারিগরি দিকগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা চন্দ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৪,৭০০ মাইল দূর দিয়ে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।

আরও পড়ুন  ৫৩ বছর পর ফের চাঁদের পথে মানুষ; আজ ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে নাসার ‘আর্টেমিস-২’

উৎক্ষেপণ শেষে নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, “ওরিয়ন মহাকাশযানের এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক মিশন। এই সফলতার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী চন্দ্রাভিজান ও মঙ্গলে যাওয়ার পরিকল্পনা সাজানো হবে। আমরা মহাকাশযানটির প্রতিটি অংশ নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।”

১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এই প্রথম মানুষ সরাসরি চাঁদের কক্ষপথের দিকে অগ্রসর হলো। এই মিশনটি সফল হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষের পদচিহ্ন পড়ার পথ আরও সুগম হবে। বিশ্বজুড়ে মহাকাশপ্রেমীরা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে মানবজাতির এক অনন্য অর্জন হিসেবে দেখছেন।