ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত বিমানবাহিনী ছেড়ে এবার যাত্রীবাহী বিমান চালাবেন অভিনন্দন ‘সুইপার আর হারপিক নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব’: কৃষিমন্ত্রী বিপিএল অনিশ্চিত, ক্রিকেটারদের সুখবর বিসিবি বসের দেশে ফিরে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিলেন মির্জা আব্বাস সকল ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ আফগানিস্তানে

৫৩ বছর পর ফের চাঁদের পথে মানুষ; আজ ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে নাসার ‘আর্টেমিস-২’

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:২৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 168

ছবি: সংগৃহীত

১৯৭২ সালের ‘অ্যাপোলো-১৭’ মিশনের দীর্ঘ ৫৩ বছর পর আবারও চাঁদের অভিমুখে যাত্রা করছে মানুষ। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আজ (১ এপ্রিল) তাদের ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কারিগরি কারণে কয়েক দফা পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে আজই চার মহাকাশচারীকে নিয়ে মহাশূন্যে পাড়ি জমাবে ওরিয়ন স্পেসক্রাফ্ট।

নাসার এই নতুন চন্দ্রাভিযান তিনটি ধাপে পরিকল্পিত। ‘আর্টেমিস-২’ হচ্ছে এই কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ, যেখানে নভোচারীরা চাঁদের মাটিতে অবতরণ না করলেও পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে চাঁদের খুব কাছ দিয়ে একটি উচ্চগতির লুপ সম্পন্ন করে ফিরে আসবেন। এর পরবর্তী ধাপ ‘আর্টেমিস-৩’-তে সরাসরি চাঁদের মাটিতে মানুষের অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে একটি স্থায়ী মানব উপস্থিতি তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মিশন পাঠানোর ক্ষেত্রে ‘মহাকাশ ঘাঁটি’ হিসেবে কাজ করবে।

এই ঐতিহাসিক মিশনে অংশ নিচ্ছেন চারজন দক্ষ মহাকাশচারী: রেইড ওয়াসম্যান-মিশন, কমান্ডার, ভিক্টর গ্লোভার-পাইলট, ক্রিস্টিনা কোচ-অভিযান বিশেষজ্ঞ, জেরেমি হ্যানসেন-কানাডিয়ান মহাকাশ সংস্থার প্রতিনিধি।

আরও পড়ুন  উইম্বলডনের রানি শিয়াওতেক, ইতিহাস গড়লেন দাপুটে জয় দিয়ে

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, চাঁদের মেরু অঞ্চলে বরফ আকারে পানি থাকতে পারে। এই পানি থেকে পানীয় জল, অক্সিজেন এবং রকেটের জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব হলে মহাকাশ গবেষণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। ওরিয়ন স্পেসক্রাফ্টটিতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত বিকিরণ সুরক্ষা এবং স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন প্রযুক্তি, যা গভীর মহাকাশে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে সক্ষম।

আমেরিকার ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম অনুযায়ী আজ বিকাল ৬টা ২৪ মিনিটে ওরিয়ন স্পেসক্রাফ্টটি উৎক্ষেপণ করা হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি আগামীকাল (২ এপ্রিল) ভোরে সরাসরি দেখা যাবে। নাসার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল এবং ওয়েবসাইটে এই মাহেন্দ্রক্ষণটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

আর্টেমিস মিশনের সাফল্য শুধু বিজ্ঞানের জয় নয়, এটি ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও চীন ও রাশিয়াসহ বেশ কিছু দেশ চাঁদে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনা করছে। এই মিশন সফল হলে মহাকাশ গবেষণার এক নতুন প্রতিযোগিতামূলক ও সম্ভাবনাময় যুগের সূচনা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

৫৩ বছর পর ফের চাঁদের পথে মানুষ; আজ ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে নাসার ‘আর্টেমিস-২’

আপডেট সময় ০৩:২৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

১৯৭২ সালের ‘অ্যাপোলো-১৭’ মিশনের দীর্ঘ ৫৩ বছর পর আবারও চাঁদের অভিমুখে যাত্রা করছে মানুষ। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আজ (১ এপ্রিল) তাদের ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কারিগরি কারণে কয়েক দফা পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে আজই চার মহাকাশচারীকে নিয়ে মহাশূন্যে পাড়ি জমাবে ওরিয়ন স্পেসক্রাফ্ট।

নাসার এই নতুন চন্দ্রাভিযান তিনটি ধাপে পরিকল্পিত। ‘আর্টেমিস-২’ হচ্ছে এই কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ, যেখানে নভোচারীরা চাঁদের মাটিতে অবতরণ না করলেও পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে চাঁদের খুব কাছ দিয়ে একটি উচ্চগতির লুপ সম্পন্ন করে ফিরে আসবেন। এর পরবর্তী ধাপ ‘আর্টেমিস-৩’-তে সরাসরি চাঁদের মাটিতে মানুষের অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে একটি স্থায়ী মানব উপস্থিতি তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মিশন পাঠানোর ক্ষেত্রে ‘মহাকাশ ঘাঁটি’ হিসেবে কাজ করবে।

এই ঐতিহাসিক মিশনে অংশ নিচ্ছেন চারজন দক্ষ মহাকাশচারী: রেইড ওয়াসম্যান-মিশন, কমান্ডার, ভিক্টর গ্লোভার-পাইলট, ক্রিস্টিনা কোচ-অভিযান বিশেষজ্ঞ, জেরেমি হ্যানসেন-কানাডিয়ান মহাকাশ সংস্থার প্রতিনিধি।

আরও পড়ুন  আজ বিশ্ব চা দিবস: এক কাপ চায়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভালোবাসা

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, চাঁদের মেরু অঞ্চলে বরফ আকারে পানি থাকতে পারে। এই পানি থেকে পানীয় জল, অক্সিজেন এবং রকেটের জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব হলে মহাকাশ গবেষণায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। ওরিয়ন স্পেসক্রাফ্টটিতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত বিকিরণ সুরক্ষা এবং স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন প্রযুক্তি, যা গভীর মহাকাশে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে সক্ষম।

আমেরিকার ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম অনুযায়ী আজ বিকাল ৬টা ২৪ মিনিটে ওরিয়ন স্পেসক্রাফ্টটি উৎক্ষেপণ করা হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি আগামীকাল (২ এপ্রিল) ভোরে সরাসরি দেখা যাবে। নাসার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল এবং ওয়েবসাইটে এই মাহেন্দ্রক্ষণটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

আর্টেমিস মিশনের সাফল্য শুধু বিজ্ঞানের জয় নয়, এটি ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও চীন ও রাশিয়াসহ বেশ কিছু দেশ চাঁদে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনা করছে। এই মিশন সফল হলে মহাকাশ গবেষণার এক নতুন প্রতিযোগিতামূলক ও সম্ভাবনাময় যুগের সূচনা হবে।