ঢাকা ০৮:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

মিশন শেষে ফিরছে আর্টেমিস-২, সামনে রয়েছে বিপজ্জনক ধাপ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 127

ছবি সংগৃহীত

 

চাঁদকে ঘিরে কক্ষপথে ভ্রমণ শেষে পৃথিবীতে ফিরে আসছে আর্টেমিস–২ মিশনের মহাকাশচারীরা। তবে এই যাত্রায় এখন পর্যন্ত বেশকিছু ঝুঁকি পার করেছেন তারা। রকেটের শক্তিশালী উৎক্ষেপণ, আর মহাকাশের ক্ষতিকর বিকিরণ- আর্টেমিস-২ এর সবচেয়ে কঠিন অংশ এখনো বাকি। আর তা হচ্ছে-পৃথিবীতে ফিরে আসা।

যখন মহাকাশযান পৃথিবীতে ফিরবে, তখন এটি খুবই দ্রুত গতিতে আসবে-শব্দের গতির চেয়ে প্রায় ৩০ গুণ বেশি দ্রুত। এই সময় এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢোকার কারণে চারপাশের বাতাস খুব বেশি গরম হয়ে যাবে। ফলে মহাকাশযানের বাইরের অংশ প্রায় ৫ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত গরম হয়ে যেতে পারে। এত গরম ও দ্রুত গতির কারণে এই ধাপটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

আরও পড়ুন  ৫৩ বছর পর ফের চাঁদের পথে মানুষ; আজ ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে নাসার ‘আর্টেমিস-২’

বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎক্ষেপণ বা চাঁদের দিকে যাত্রার চেয়ে এই “রিএন্ট্রি” বা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর্যায়টি অনেক বেশি বিপদসংকুল।

নাসার পরিকল্পিত এই মিশনে ব্যবহৃত ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদকে ঘুরে ফেরার সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে প্রায় ২৫ হাজার মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিতে। এই প্রবল গতির কারণে বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণে মহাকাশযানের বাইরের অংশে তৈরি হবে কয়েক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, যা কার্যত এটিকে এক ধরনের অগ্নিগোলকের মধ্যে পরিণত করবে। এই সময় নভোচারীদের জীবন রক্ষার প্রধান ভরসা থাকে মহাকাশযানের তাপরোধী আবরণ বা হিট শিল্ড।

তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থাই এখন প্রশ্নের মুখে। এর আগে আর্টেমিস-১ নামের পরীক্ষামূলক, মানববিহীন মিশনে হিট শিল্ডে অপ্রত্যাশিত ক্ষয় এবং ফাটলের মতো সমস্যা দেখা গিয়েছিল। তদন্তে জানা যায়, তাপ সুরক্ষা স্তরের ভেতরে গ্যাস জমে চাপ তৈরি হওয়ায় কিছু অংশে ক্ষয় ঘটে এবং উপাদান খসে পড়ার ঘটনাও ঘটে।

এই অভিজ্ঞতার পর আর্টেমিস-২ মিশনের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা অবলম্বন করছে নাসা। সংস্থাটি জানায়, রিএন্ট্রির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে-আগের “স্কিপ রিএন্ট্রি” কৌশলের পরিবর্তে সরাসরি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে তাপের প্রভাবের সময়কাল ও জটিলতা কমে আসে। পাশাপাশি হিট শিল্ডের নকশায় কিছু পরিবর্তন এবং উপাদানগত উন্নয়নও করা হয়েছে।

নাসার কর্মকর্তারা দাবি করছেন, আগের সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, নতুন ডিজাইন ও পরিবর্তিত রিএন্ট্রি প্রক্রিয়া মিশনের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করবে।

তবে সব ব্যাখ্যা সত্ত্বেও সংশয় পুরোপুরি কাটেনি। কিছু সাবেক প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, উচ্চ গতির এই বায়ুমণ্ডলীয় প্রবেশের সময় হিট শিল্ডের আচরণ এখনো সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষিত নয়। এই পর্যায়ে কোনো বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে না বলেও সতর্ক করছেন তারা।

সব মিলিয়ে, চাঁদের পথে যাত্রা যতটা প্রতীকী ও ঐতিহাসিক, তার চেয়েও বেশি প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসার এই শেষ ধাপটি।

এদিকে আর্টেমিস–২ মিশনের মহাকাশচারী পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেছেন, ‘আমাদের ফিরতেই হবে। আপনারা ইতিমধ্যেই অনেক তথ্য দেখেছেন, কিন্তু সব ভালো জিনিস আমাদের সঙ্গে ফিরে আসছে। আরও অনেক ছবি, আরও অনেক গল্প আছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে একটি অগ্নিগোলকের উপর চড়ে যাওয়াটাও এক গভীর অভিজ্ঞতা।’

জানা গেছে, নভোচারীদের পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের সরাসরি সম্প্রচার নাসা থেকে শুরু হবে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিশন শেষে ফিরছে আর্টেমিস-২, সামনে রয়েছে বিপজ্জনক ধাপ

আপডেট সময় ১০:১৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

 

চাঁদকে ঘিরে কক্ষপথে ভ্রমণ শেষে পৃথিবীতে ফিরে আসছে আর্টেমিস–২ মিশনের মহাকাশচারীরা। তবে এই যাত্রায় এখন পর্যন্ত বেশকিছু ঝুঁকি পার করেছেন তারা। রকেটের শক্তিশালী উৎক্ষেপণ, আর মহাকাশের ক্ষতিকর বিকিরণ- আর্টেমিস-২ এর সবচেয়ে কঠিন অংশ এখনো বাকি। আর তা হচ্ছে-পৃথিবীতে ফিরে আসা।

যখন মহাকাশযান পৃথিবীতে ফিরবে, তখন এটি খুবই দ্রুত গতিতে আসবে-শব্দের গতির চেয়ে প্রায় ৩০ গুণ বেশি দ্রুত। এই সময় এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢোকার কারণে চারপাশের বাতাস খুব বেশি গরম হয়ে যাবে। ফলে মহাকাশযানের বাইরের অংশ প্রায় ৫ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত গরম হয়ে যেতে পারে। এত গরম ও দ্রুত গতির কারণে এই ধাপটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

আরও পড়ুন  সফলভাবে উৎক্ষিপ্ত আর্টেমিস-২; ৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানবজাতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎক্ষেপণ বা চাঁদের দিকে যাত্রার চেয়ে এই “রিএন্ট্রি” বা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর্যায়টি অনেক বেশি বিপদসংকুল।

নাসার পরিকল্পিত এই মিশনে ব্যবহৃত ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদকে ঘুরে ফেরার সময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে প্রায় ২৫ হাজার মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিতে। এই প্রবল গতির কারণে বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণে মহাকাশযানের বাইরের অংশে তৈরি হবে কয়েক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, যা কার্যত এটিকে এক ধরনের অগ্নিগোলকের মধ্যে পরিণত করবে। এই সময় নভোচারীদের জীবন রক্ষার প্রধান ভরসা থাকে মহাকাশযানের তাপরোধী আবরণ বা হিট শিল্ড।

তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থাই এখন প্রশ্নের মুখে। এর আগে আর্টেমিস-১ নামের পরীক্ষামূলক, মানববিহীন মিশনে হিট শিল্ডে অপ্রত্যাশিত ক্ষয় এবং ফাটলের মতো সমস্যা দেখা গিয়েছিল। তদন্তে জানা যায়, তাপ সুরক্ষা স্তরের ভেতরে গ্যাস জমে চাপ তৈরি হওয়ায় কিছু অংশে ক্ষয় ঘটে এবং উপাদান খসে পড়ার ঘটনাও ঘটে।

এই অভিজ্ঞতার পর আর্টেমিস-২ মিশনের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা অবলম্বন করছে নাসা। সংস্থাটি জানায়, রিএন্ট্রির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে-আগের “স্কিপ রিএন্ট্রি” কৌশলের পরিবর্তে সরাসরি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে তাপের প্রভাবের সময়কাল ও জটিলতা কমে আসে। পাশাপাশি হিট শিল্ডের নকশায় কিছু পরিবর্তন এবং উপাদানগত উন্নয়নও করা হয়েছে।

নাসার কর্মকর্তারা দাবি করছেন, আগের সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, নতুন ডিজাইন ও পরিবর্তিত রিএন্ট্রি প্রক্রিয়া মিশনের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করবে।

তবে সব ব্যাখ্যা সত্ত্বেও সংশয় পুরোপুরি কাটেনি। কিছু সাবেক প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, উচ্চ গতির এই বায়ুমণ্ডলীয় প্রবেশের সময় হিট শিল্ডের আচরণ এখনো সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষিত নয়। এই পর্যায়ে কোনো বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে না বলেও সতর্ক করছেন তারা।

সব মিলিয়ে, চাঁদের পথে যাত্রা যতটা প্রতীকী ও ঐতিহাসিক, তার চেয়েও বেশি প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসার এই শেষ ধাপটি।

এদিকে আর্টেমিস–২ মিশনের মহাকাশচারী পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেছেন, ‘আমাদের ফিরতেই হবে। আপনারা ইতিমধ্যেই অনেক তথ্য দেখেছেন, কিন্তু সব ভালো জিনিস আমাদের সঙ্গে ফিরে আসছে। আরও অনেক ছবি, আরও অনেক গল্প আছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে একটি অগ্নিগোলকের উপর চড়ে যাওয়াটাও এক গভীর অভিজ্ঞতা।’

জানা গেছে, নভোচারীদের পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের সরাসরি সম্প্রচার নাসা থেকে শুরু হবে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে।