দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতুসহ ৩ মেগা প্রকল্পের মহাপরিকল্পনা সরকারের
- আপডেট সময় ০৭:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
- / 33
বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০৩২ সালের মধ্যে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, ২০৩৩ সালে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। সম্প্রতি সেতু বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রাক্কলন ও পরবর্তী অর্থবছরগুলোর সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে আলোচনায় এই মেগা প্রকল্পগুলোর রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
সেতু বিভাগ জানিয়েছে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাথমিক সমীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রায় ৪.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মিত হলে রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হবে। অন্যদিকে, যমুনা সেতুর সংযোগ সড়কগুলো ছয় লেনে উন্নীত হওয়ায় সেতুর সংকীর্ণতা দূর করতে একটি বিকল্প সেতু নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এই লক্ষে বগুড়া-জামালপুর করিডোর অথবা গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত সম্ভাব্য রুটে সমীক্ষা চলছে। ২০৩৩ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যানবাহনের ক্রমবর্ধমান চাপ সামলাতে একটি অত্যাধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সেতু বিভাগ। দ্রুতগতিতে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করতে এই এক্সপ্রেসওয়েটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি আউটার রিং সার্কুলারের মাধ্যমে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
বর্তমানে সেতু বিভাগের অধীনে ছোট-বড় মোট ৫৭টি প্রকল্প চলমান ও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পাঁচটি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে বড় সেতু, টানেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ এবং ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অন্যতম। বর্তমানে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং পঞ্চবটি-মুক্তারপুর দোতলা রাস্তা নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর কাজ চলমান রয়েছে যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।


























