ঢাকা ০৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

গুম প্রতিরোধে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করা হবে: আইন উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ মে ২০২৫
  • / 402

ছবি: সংগৃৃহীত

 

গুম প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

শনিবার (১০ মে) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ (দ্বিতীয় খসড়া) বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।

আরও পড়ুন  ঐকমত্য কমিশন ও এনসিপি বৈঠক

মতবিনিময় সভায় আইন উপদেষ্টা বলেন, “ফরহাদ ভাই (ফরহাদ মজহার) বারবার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। আমি তার সঙ্গে একমত। এই ধরনের একটি কমিশন আমাদের দেশে অনেক আগেই থাকা উচিত ছিল। যদি ১৯৭২ সাল থেকেই এমন কমিশন গঠিত হতো, তাহলে অনেক সমস্যার পেশাদার সমাধান সম্ভব হতো।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করতে চাই, যাতে অতীতের গুম সংক্রান্ত অভিযোগগুলো যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায় এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান।”

পরবর্তী সরকার এই আইন ও কমিশনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে কি না—এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা জানি না আগামীতে যারা সরকারে আসবে তারা এই বিষয়ে কতটা আন্তরিক থাকবে। এমনকি তারা যদি গুম সংক্রান্ত কোনো আইন করেও, সেটি কতটা শক্তিশালী হবে, তাও নিশ্চিত নয়। তাই আমরা এখন থেকেই এটিকে যথেষ্ট শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”

তিনি জানান, বর্তমান খসড়ায় একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা গুম সংক্রান্ত প্রতিটি অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে এবং সুপারিশমালা প্রদান করবে। এছাড়া আইনি প্রক্রিয়া সহজ, নিরপেক্ষ এবং মানবাধিকারের মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যও রয়েছে এই আইনে।

সভায় বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, গবেষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তারা গুম প্রতিরোধে আইন ও কমিশন গঠনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং আরো কিছু পরামর্শ তুলে ধরেন।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের মানবাধিকার রক্ষায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

গুম প্রতিরোধে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করা হবে: আইন উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৭:০১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ মে ২০২৫

 

গুম প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

শনিবার (১০ মে) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ (দ্বিতীয় খসড়া) বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।

আরও পড়ুন  নারী সংস্কার কমিশনের বিতর্কিত প্রস্তাব: পর্যালোচনায় বিশেষজ্ঞ কমিটি চেয়ে রিট

মতবিনিময় সভায় আইন উপদেষ্টা বলেন, “ফরহাদ ভাই (ফরহাদ মজহার) বারবার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। আমি তার সঙ্গে একমত। এই ধরনের একটি কমিশন আমাদের দেশে অনেক আগেই থাকা উচিত ছিল। যদি ১৯৭২ সাল থেকেই এমন কমিশন গঠিত হতো, তাহলে অনেক সমস্যার পেশাদার সমাধান সম্ভব হতো।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করতে চাই, যাতে অতীতের গুম সংক্রান্ত অভিযোগগুলো যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায় এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান।”

পরবর্তী সরকার এই আইন ও কমিশনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে কি না—এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা জানি না আগামীতে যারা সরকারে আসবে তারা এই বিষয়ে কতটা আন্তরিক থাকবে। এমনকি তারা যদি গুম সংক্রান্ত কোনো আইন করেও, সেটি কতটা শক্তিশালী হবে, তাও নিশ্চিত নয়। তাই আমরা এখন থেকেই এটিকে যথেষ্ট শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”

তিনি জানান, বর্তমান খসড়ায় একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা গুম সংক্রান্ত প্রতিটি অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে এবং সুপারিশমালা প্রদান করবে। এছাড়া আইনি প্রক্রিয়া সহজ, নিরপেক্ষ এবং মানবাধিকারের মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যও রয়েছে এই আইনে।

সভায় বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, গবেষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তারা গুম প্রতিরোধে আইন ও কমিশন গঠনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং আরো কিছু পরামর্শ তুলে ধরেন।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের মানবাধিকার রক্ষায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।