ঢাকা ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

গুম প্রতিরোধে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করা হবে: আইন উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ মে ২০২৫
  • / 215

ছবি: সংগৃৃহীত

 

গুম প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

শনিবার (১০ মে) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ (দ্বিতীয় খসড়া) বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।

আরও পড়ুন  কমিশনের বৈঠক বিএনপির না

মতবিনিময় সভায় আইন উপদেষ্টা বলেন, “ফরহাদ ভাই (ফরহাদ মজহার) বারবার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। আমি তার সঙ্গে একমত। এই ধরনের একটি কমিশন আমাদের দেশে অনেক আগেই থাকা উচিত ছিল। যদি ১৯৭২ সাল থেকেই এমন কমিশন গঠিত হতো, তাহলে অনেক সমস্যার পেশাদার সমাধান সম্ভব হতো।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করতে চাই, যাতে অতীতের গুম সংক্রান্ত অভিযোগগুলো যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায় এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান।”

পরবর্তী সরকার এই আইন ও কমিশনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে কি না—এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা জানি না আগামীতে যারা সরকারে আসবে তারা এই বিষয়ে কতটা আন্তরিক থাকবে। এমনকি তারা যদি গুম সংক্রান্ত কোনো আইন করেও, সেটি কতটা শক্তিশালী হবে, তাও নিশ্চিত নয়। তাই আমরা এখন থেকেই এটিকে যথেষ্ট শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”

তিনি জানান, বর্তমান খসড়ায় একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা গুম সংক্রান্ত প্রতিটি অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে এবং সুপারিশমালা প্রদান করবে। এছাড়া আইনি প্রক্রিয়া সহজ, নিরপেক্ষ এবং মানবাধিকারের মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যও রয়েছে এই আইনে।

সভায় বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, গবেষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তারা গুম প্রতিরোধে আইন ও কমিশন গঠনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং আরো কিছু পরামর্শ তুলে ধরেন।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের মানবাধিকার রক্ষায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

গুম প্রতিরোধে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করা হবে: আইন উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৭:০১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ মে ২০২৫

 

গুম প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

শনিবার (১০ মে) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ (দ্বিতীয় খসড়া) বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।

আরও পড়ুন  কমিশন ব্যর্থ হলে সেটি সকল পক্ষের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে: আলী রীয়াজ

মতবিনিময় সভায় আইন উপদেষ্টা বলেন, “ফরহাদ ভাই (ফরহাদ মজহার) বারবার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। আমি তার সঙ্গে একমত। এই ধরনের একটি কমিশন আমাদের দেশে অনেক আগেই থাকা উচিত ছিল। যদি ১৯৭২ সাল থেকেই এমন কমিশন গঠিত হতো, তাহলে অনেক সমস্যার পেশাদার সমাধান সম্ভব হতো।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করতে চাই, যাতে অতীতের গুম সংক্রান্ত অভিযোগগুলো যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায় এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান।”

পরবর্তী সরকার এই আইন ও কমিশনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে কি না—এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা জানি না আগামীতে যারা সরকারে আসবে তারা এই বিষয়ে কতটা আন্তরিক থাকবে। এমনকি তারা যদি গুম সংক্রান্ত কোনো আইন করেও, সেটি কতটা শক্তিশালী হবে, তাও নিশ্চিত নয়। তাই আমরা এখন থেকেই এটিকে যথেষ্ট শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”

তিনি জানান, বর্তমান খসড়ায় একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা গুম সংক্রান্ত প্রতিটি অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে এবং সুপারিশমালা প্রদান করবে। এছাড়া আইনি প্রক্রিয়া সহজ, নিরপেক্ষ এবং মানবাধিকারের মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যও রয়েছে এই আইনে।

সভায় বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, গবেষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তারা গুম প্রতিরোধে আইন ও কমিশন গঠনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং আরো কিছু পরামর্শ তুলে ধরেন।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের মানবাধিকার রক্ষায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।