ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

উর্ধ্বমুখী কিশোর অপরাধ! মাত্র ২ বছরে গ্যাং সংখ্যা বাড়ল ৩৭% 

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩২:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 191

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশে কিশোর গ্যাং এখন আর শুধু মহল্লার আড্ডায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা রীতিমতো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রে রূপ নিচ্ছে। হত্যা, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে জমি দখলের মতো গুরুতর অপরাধেও যুক্ত হচ্ছে তারা। বিগত দুই বছরে কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় হুমকি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা ২৩৭টি, যেখানে দুই বছর আগেও ছিল ১৭৩টি। সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় আড়াই হাজারে, যা পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৩৪টি দেশ থেকে ৫ লাখ শ্রমিক নেবে ইতালি

এই গ্যাংগুলোর সদস্যদের বয়স সাধারণত ১২ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যানিটিজের গবেষণায় উঠে এসেছে, ১২-১৬ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা ছয় বছরে ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। একই ধারায় জেইটিআইআর-এর গবেষণাও বলছে, নগর এলাকায় শিশুদের ৭৫ শতাংশই কোনো না কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত।

তাদের অপরাধের ধরনও নানাবিধ মাদকাসক্তি, চুরি, অস্ত্র বহন, ধর্ষণ, হত্যা, এমনকি চাঁদাবাজিতেও সক্রিয়। পল্লবী, মিরপুর, তেজগাঁও, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এদের দৌরাত্ম্য স্পষ্ট। একাধিক কিশোর রয়েছে যাদের নামে একাধিক মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও অভিযোগ রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কিশোররা অনেক সময় অপরাধীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, দরিদ্রতা, পারিবারিক অবহেলা এবং শিক্ষার অভাব তাদের অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান মনে করেন, “এ সমস্যার সমাধানে পরিবার, সমাজ, সরকার এবং বেসরকারি সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। কিশোরদের শাস্তির চাইতে পুনর্বাসনে গুরুত্ব দিতে হবে।”

সরকারি নীতিনির্ধারক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজকেও সচেতন হতে হবে। গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও মনো-সামাজিক সহায়তা বাড়িয়ে কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখাই হতে পারে একমাত্র পথ। নয়তো আজকের এই অবহেলিত কিশোরদের হাতেই তৈরি হবে আগামী দিনের অপরাধজগত।

নিউজটি শেয়ার করুন

উর্ধ্বমুখী কিশোর অপরাধ! মাত্র ২ বছরে গ্যাং সংখ্যা বাড়ল ৩৭% 

আপডেট সময় ১১:৩২:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫

 

বাংলাদেশে কিশোর গ্যাং এখন আর শুধু মহল্লার আড্ডায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা রীতিমতো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রে রূপ নিচ্ছে। হত্যা, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে জমি দখলের মতো গুরুতর অপরাধেও যুক্ত হচ্ছে তারা। বিগত দুই বছরে কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় হুমকি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা ২৩৭টি, যেখানে দুই বছর আগেও ছিল ১৭৩টি। সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় আড়াই হাজারে, যা পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী রিয়াদ

এই গ্যাংগুলোর সদস্যদের বয়স সাধারণত ১২ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যানিটিজের গবেষণায় উঠে এসেছে, ১২-১৬ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা ছয় বছরে ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। একই ধারায় জেইটিআইআর-এর গবেষণাও বলছে, নগর এলাকায় শিশুদের ৭৫ শতাংশই কোনো না কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত।

তাদের অপরাধের ধরনও নানাবিধ মাদকাসক্তি, চুরি, অস্ত্র বহন, ধর্ষণ, হত্যা, এমনকি চাঁদাবাজিতেও সক্রিয়। পল্লবী, মিরপুর, তেজগাঁও, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এদের দৌরাত্ম্য স্পষ্ট। একাধিক কিশোর রয়েছে যাদের নামে একাধিক মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও অভিযোগ রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কিশোররা অনেক সময় অপরাধীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, দরিদ্রতা, পারিবারিক অবহেলা এবং শিক্ষার অভাব তাদের অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান মনে করেন, “এ সমস্যার সমাধানে পরিবার, সমাজ, সরকার এবং বেসরকারি সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। কিশোরদের শাস্তির চাইতে পুনর্বাসনে গুরুত্ব দিতে হবে।”

সরকারি নীতিনির্ধারক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজকেও সচেতন হতে হবে। গবেষণা, পর্যবেক্ষণ ও মনো-সামাজিক সহায়তা বাড়িয়ে কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখাই হতে পারে একমাত্র পথ। নয়তো আজকের এই অবহেলিত কিশোরদের হাতেই তৈরি হবে আগামী দিনের অপরাধজগত।