আদালতের বাইরে আসামির কথা বলা ও প্রচারে ট্রাইব্যুনালের কড়া নিষেধাজ্ঞা
- আপডেট সময় ০৩:০৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
- / 67
আদালতের বাইরে পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনো আসামির কথা বলা এবং তা গণমাধ্যমে প্রচার না করার বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে এই আবেদনটি করা হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আদালতের বাইরে আসামির দেওয়া বক্তব্য ও তা প্রচার না করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য আবেদন জানান।
বিশেষ পিপি আদালতকে বলেন, আইন অনুযায়ী বিচারকের সামনে ছাড়া পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় কথা বলার কোনো এখতিয়ার আসামির নেই এবং এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশি হেফাজতে থাকা বা দণ্ডিত আসামিদের বক্তব্য মিডিয়ায় প্রচার করা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার নিয়মানুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষা, জনমত প্রভাবিত হওয়া রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এসব নির্দেশনা মেনে ভবিষ্যতে আসামিরা যেন কারও সামনে কথা বলতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। পরে ট্রাইব্যুনাল এই আবেদন মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে, একই দিন সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
এরপর ভুক্তভোগীর মা পারভীন আক্তার আদালতে সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী মূসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা সম্পন্ন করেন। এরপর ক্যামেরা ট্রায়ালের (রুদ্ধদ্বার কক্ষ) মাধ্যমে রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিনভর মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে সকাল পৌনে নয়টায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় প্রথমে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হলেও সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে এজলাসে তোলা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার (১ জুন) আদালত সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেয়।
এর আগে একই দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এই অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি চূড়ান্ত বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়, যেখানে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।


























