ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সয়াবিনের সোনালি স্বপ্নে দুলছে লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চল, কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:০৪:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫
  • / 233

ছবি: সংগৃহীত

 

লক্ষ্মীপুরের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় চরাঞ্চলে সয়াবিনের সবুজ পাতায় কৃষকের সোনালি স্বপ্ন দুলছে। মেঘনার উর্বর চরজমিগুলো যেন সয়াবিন চাষের জন্য আশীর্বাদ। পাতা, ফুল আর থোকায় থোকায় ভরে গেছে ক্ষেত। আর মাত্র এক-দেড় মাসের মধ্যে কৃষকের ঘরে উঠবে কাঙ্ক্ষিত ফসল।

দেশের মোট সয়াবিন উৎপাদনের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ আসে এই জনপদ থেকে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সয়াবিন আবাদ হয়েছে। ৪৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার লেনদেনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফসল ঘরে তুলতে পারলে চরাঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হবে।

আরও পড়ুন  পাপনের ৮০০ কোটি টাকার লেনদেন ও অবৈধ সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক

কৃষকদের মতে, সয়াবিন চাষে কম পানি লাগে, কম খরচে বেশি লাভ হয়। ধানের তুলনায় পরিশ্রমও কম। লবণাক্ত মাটিতেও সহজে উৎপাদিত হওয়ায় তারা দিন দিন সয়াবিন চাষে ঝুঁকছেন। চর কাচিয়া, চরলক্ষ্মী, চরবাদাম ও চর আলী হাসানের কৃষকরা বলছেন, ধান উৎপাদনে বেশি সার, পানি ও কীটনাশক লাগে, কিন্তু সয়াবিনে কম লাগে। তাছাড়া সয়াবিন চাষ করলে জমির উর্বরতা বাড়ে, পরবর্তী ফসলও ভালো হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৬০০ হেক্টর বেশি জমিতে সয়াবিন আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে প্রায় ২ মেট্রিক টন উৎপাদন হলে এবার ৮৮ হাজার মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। জেলার সবচেয়ে বেশি সয়াবিন উৎপাদন হয় রামগতি ও কমলনগরে, যেখানে যথাক্রমে ১৭ হাজার ও ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

সয়াবিন চাষের এই বিপুল সম্ভাবনার মধ্যেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অতিবৃষ্টি হলে ক্ষেত প্লাবিত হয়ে ফসল নষ্ট হয়। কিছু কৃষক যথাযথ পরামর্শ না নেওয়ায় কীটনাশক ব্যবহারে ভুল করেন, এতে ফলনের ক্ষতি হয়। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসারে জলবায়ু সহনশীল উন্নত জাত চাষ করলে কৃষকদের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, সয়াবিনকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়, ব্যাংকগুলো কৃষকদের ঋণও দেয়। কিন্তু এত সম্ভাবনার পরও সয়াবিননির্ভর শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি, যা কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ বলেন, উপকূলীয় জমির লবণাক্ততা সয়াবিন সহজে সহ্য করতে পারে। উন্নত জাত যেমন বীনা-৫, বীনা-৬, বারি-৪, বারি-৬, বিইউ-৩, বিইউ-৪, বিইউ-৫ চাষ করলে ফলন ভালো হয়, ওজন বেশি হয়। এছাড়া জীবনকাল কমিয়ে আনায় কৃষকরা আগেভাগে ফসল তুলতে পারছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

সয়াবিনের সোনালি স্বপ্নে দুলছে লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চল, কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকরা

আপডেট সময় ০২:০৪:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫

 

লক্ষ্মীপুরের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় চরাঞ্চলে সয়াবিনের সবুজ পাতায় কৃষকের সোনালি স্বপ্ন দুলছে। মেঘনার উর্বর চরজমিগুলো যেন সয়াবিন চাষের জন্য আশীর্বাদ। পাতা, ফুল আর থোকায় থোকায় ভরে গেছে ক্ষেত। আর মাত্র এক-দেড় মাসের মধ্যে কৃষকের ঘরে উঠবে কাঙ্ক্ষিত ফসল।

দেশের মোট সয়াবিন উৎপাদনের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ আসে এই জনপদ থেকে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সয়াবিন আবাদ হয়েছে। ৪৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার লেনদেনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফসল ঘরে তুলতে পারলে চরাঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হবে।

আরও পড়ুন  ডিএসইতে আধা ঘণ্টায় লেনদেন ৮০ কোটি টাকা, পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থান

কৃষকদের মতে, সয়াবিন চাষে কম পানি লাগে, কম খরচে বেশি লাভ হয়। ধানের তুলনায় পরিশ্রমও কম। লবণাক্ত মাটিতেও সহজে উৎপাদিত হওয়ায় তারা দিন দিন সয়াবিন চাষে ঝুঁকছেন। চর কাচিয়া, চরলক্ষ্মী, চরবাদাম ও চর আলী হাসানের কৃষকরা বলছেন, ধান উৎপাদনে বেশি সার, পানি ও কীটনাশক লাগে, কিন্তু সয়াবিনে কম লাগে। তাছাড়া সয়াবিন চাষ করলে জমির উর্বরতা বাড়ে, পরবর্তী ফসলও ভালো হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৬০০ হেক্টর বেশি জমিতে সয়াবিন আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে প্রায় ২ মেট্রিক টন উৎপাদন হলে এবার ৮৮ হাজার মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। জেলার সবচেয়ে বেশি সয়াবিন উৎপাদন হয় রামগতি ও কমলনগরে, যেখানে যথাক্রমে ১৭ হাজার ও ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

সয়াবিন চাষের এই বিপুল সম্ভাবনার মধ্যেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অতিবৃষ্টি হলে ক্ষেত প্লাবিত হয়ে ফসল নষ্ট হয়। কিছু কৃষক যথাযথ পরামর্শ না নেওয়ায় কীটনাশক ব্যবহারে ভুল করেন, এতে ফলনের ক্ষতি হয়। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসারে জলবায়ু সহনশীল উন্নত জাত চাষ করলে কৃষকদের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, সয়াবিনকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়, ব্যাংকগুলো কৃষকদের ঋণও দেয়। কিন্তু এত সম্ভাবনার পরও সয়াবিননির্ভর শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি, যা কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ বলেন, উপকূলীয় জমির লবণাক্ততা সয়াবিন সহজে সহ্য করতে পারে। উন্নত জাত যেমন বীনা-৫, বীনা-৬, বারি-৪, বারি-৬, বিইউ-৩, বিইউ-৪, বিইউ-৫ চাষ করলে ফলন ভালো হয়, ওজন বেশি হয়। এছাড়া জীবনকাল কমিয়ে আনায় কৃষকরা আগেভাগে ফসল তুলতে পারছেন।