ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৫৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 14

ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশীয় উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তকরণ এবং আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন।

মঙ্গলবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কার ঘোষণা করে। ৮২ বছর বয়সী হালজেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনের সঙ্গে যুক্ত।

নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হালজেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষক ও প্রকৌশলীদের একটি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র তৈরি হয়েছে, যা মহাবিশ্বকে পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

আরও পড়ুন  আজ থেকে শুরু নোবেল পুরস্কার ঘোষণা

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান মার্ক পিয়ার্স বলেন, ফ্রান্সিস হালজেনের দীর্ঘ অধ্যবসায় ও বৈজ্ঞানিক দূরদর্শিতা জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন একটি গবেষণাধারার পথ তৈরি করেছে।

নিউট্রিনো অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও বৈদ্যুতিকভাবে নিরপেক্ষ মৌলিক কণা। পদার্থের সঙ্গে এদের পারস্পরিক ক্রিয়া অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় বিপুল পরিমাণ পদার্থ ভেদ করে প্রায় বাধাহীনভাবে চলাচল করতে পারে। ফলে মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও শক্তিশালী মহাজাগতিক উৎস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে নিউট্রিনোর গুরুত্ব অনেক।

হালজেন ১৯৮০-এর দশক থেকেই নিউট্রিনো শনাক্তকরণ নিয়ে গবেষণা করছেন। পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম ও প্রতিকূল পরিবেশ দক্ষিণ মেরুতে কীভাবে নিউট্রিনো শনাক্ত করা যায়, তা নিয়ে তখন থেকেই কাজ শুরু করেন তিনি।

দক্ষিণ মেরুর বরফের প্রায় দেড় কিলোমিটার গভীরে স্থাপন করা হয়েছে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি। বিপুল পরিমাণ স্বচ্ছ বরফের মধ্যে বসানো বিশেষ সেন্সরের সাহায্যে এটি নিউট্রিনোর অত্যন্ত ক্ষীণ সংকেত শনাক্ত করে।

এই পর্যবেক্ষণাগারের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও সূর্যের বাইরেও মহাবিশ্বের দূরবর্তী জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করার সুযোগ পেয়েছেন।

নোবেল কমিটির মতে, এই গবেষণা মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে একটি নতুন জানালা খুলে দিয়েছে। আলো বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের পরিবর্তে নিউট্রিনো ব্যবহার করে মহাজাগতিক বস্তু ও ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও রহস্যময় কিছু উৎস সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।

পুরস্কারের অর্থ ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা

এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। পুরস্কারটি একজন ব্যক্তি, একাধিক বিজ্ঞানীর ছোট দল কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হতে পারে।

গত বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন তিন বিজ্ঞানী। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার অদ্ভুত আচরণ এবং ‘কোয়ান্টাম টানেলিং’ নিয়ে তাদের গবেষণা চিকিৎসাক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল এমআরআই পরিমাপ প্রযুক্তির উন্নয়নে সহায়তা করে। পাশাপাশি উন্নত মোবাইল ফোন ও আরও দ্রুতগতির কম্পিউটার তৈরির ক্ষেত্রেও ওই গবেষণার ভূমিকা রয়েছে।

শুরু হয়েছে এবারের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা

সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয়। মস্তিষ্কের কার্যপ্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে আলো ব্যবহার করে নতুন ধরনের গবেষণার হাতিয়ার তৈরিতে অবদানের জন্য তিন বিজ্ঞানীকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল দেওয়া হয়েছে।

বুধবার রসায়নে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল, শুক্রবার শান্তিতে নোবেল এবং আগামী সোমবার অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।

সূত্র: নোবেল প্রাইজ

নিউজটি শেয়ার করুন

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

আপডেট সময় ০৪:৫৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

মহাকাশীয় উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তকরণ এবং আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন।

মঙ্গলবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কার ঘোষণা করে। ৮২ বছর বয়সী হালজেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনের সঙ্গে যুক্ত।

নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হালজেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষক ও প্রকৌশলীদের একটি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র তৈরি হয়েছে, যা মহাবিশ্বকে পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

আরও পড়ুন  অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় কণ্ঠশিল্পী নোবেলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান মার্ক পিয়ার্স বলেন, ফ্রান্সিস হালজেনের দীর্ঘ অধ্যবসায় ও বৈজ্ঞানিক দূরদর্শিতা জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন একটি গবেষণাধারার পথ তৈরি করেছে।

নিউট্রিনো অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও বৈদ্যুতিকভাবে নিরপেক্ষ মৌলিক কণা। পদার্থের সঙ্গে এদের পারস্পরিক ক্রিয়া অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় বিপুল পরিমাণ পদার্থ ভেদ করে প্রায় বাধাহীনভাবে চলাচল করতে পারে। ফলে মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও শক্তিশালী মহাজাগতিক উৎস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে নিউট্রিনোর গুরুত্ব অনেক।

হালজেন ১৯৮০-এর দশক থেকেই নিউট্রিনো শনাক্তকরণ নিয়ে গবেষণা করছেন। পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম ও প্রতিকূল পরিবেশ দক্ষিণ মেরুতে কীভাবে নিউট্রিনো শনাক্ত করা যায়, তা নিয়ে তখন থেকেই কাজ শুরু করেন তিনি।

দক্ষিণ মেরুর বরফের প্রায় দেড় কিলোমিটার গভীরে স্থাপন করা হয়েছে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি। বিপুল পরিমাণ স্বচ্ছ বরফের মধ্যে বসানো বিশেষ সেন্সরের সাহায্যে এটি নিউট্রিনোর অত্যন্ত ক্ষীণ সংকেত শনাক্ত করে।

এই পর্যবেক্ষণাগারের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও সূর্যের বাইরেও মহাবিশ্বের দূরবর্তী জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করার সুযোগ পেয়েছেন।

নোবেল কমিটির মতে, এই গবেষণা মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে একটি নতুন জানালা খুলে দিয়েছে। আলো বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের পরিবর্তে নিউট্রিনো ব্যবহার করে মহাজাগতিক বস্তু ও ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও রহস্যময় কিছু উৎস সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।

পুরস্কারের অর্থ ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা

এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। পুরস্কারটি একজন ব্যক্তি, একাধিক বিজ্ঞানীর ছোট দল কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হতে পারে।

গত বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন তিন বিজ্ঞানী। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার অদ্ভুত আচরণ এবং ‘কোয়ান্টাম টানেলিং’ নিয়ে তাদের গবেষণা চিকিৎসাক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল এমআরআই পরিমাপ প্রযুক্তির উন্নয়নে সহায়তা করে। পাশাপাশি উন্নত মোবাইল ফোন ও আরও দ্রুতগতির কম্পিউটার তৈরির ক্ষেত্রেও ওই গবেষণার ভূমিকা রয়েছে।

শুরু হয়েছে এবারের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা

সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয়। মস্তিষ্কের কার্যপ্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে আলো ব্যবহার করে নতুন ধরনের গবেষণার হাতিয়ার তৈরিতে অবদানের জন্য তিন বিজ্ঞানীকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল দেওয়া হয়েছে।

বুধবার রসায়নে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল, শুক্রবার শান্তিতে নোবেল এবং আগামী সোমবার অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।

সূত্র: নোবেল প্রাইজ