ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

রোনালদোর পর্তুগাল ক্যাম্প ছাড়ার পর পর্তুগালের ইনস্টাগ্রামে ৫ লাখ অনুসারী কমল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 35

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চলে যাওয়াকে ঘিরে পর্তুগিজ ফুটবলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বড় ধাক্কা খেয়েছে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল। রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার খবর প্রকাশের পর এক দিনেরও কম সময়ে দলটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পাঁচ লাখের বেশি অনুসারী কমে গেছে।

পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকার জাতীয় দলে অবমূল্যায়ন হয়েছে কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে বিতর্ক। রোনালদোর সমর্থকদের একাংশ পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল বয়কটের ডাক দিয়েছেন।

রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার ঘোষণার আগে পর্তুগাল জাতীয় দলের ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ছিল প্রায় ২ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার। পরবর্তী ১৮ ঘণ্টায় কমে যায় ৫ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি অনুসারী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ সংখ্যাটি নেমে আসে প্রায় ২ কোটি ৪৪ লাখে।

আরও পড়ুন  মেটার নতুন AI অ্যাপ: এখন আরও সহজে কথা বলার সুযোগ।

রোনালদোর এক সমর্থক এই পরিস্থিতিকে ‘ডিজিটাল বয়কট’ উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা পর্তুগালকে অনুসরণ করিনি, আমরা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অনুসরণ করেছি।’

উয়েফা নেশনস লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে পর্তুগালের হয়ে শুরু থেকেই খেলেছিলেন রোনালদো। তবে নরওয়ের বিপক্ষে পরের ম্যাচে তাঁকে প্রথম একাদশে রাখা হয়নি। কোচ হোর্হে জেসুসের দাবি, রোনালদোকে না খেলানোর বিষয়ে আগে থেকেই সমঝোতা হয়েছিল। তাঁর পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পান গনসালো রামোস।

তবে ম্যাচের আগে রোনালদোকে দ্বিতীয়ার্ধে অন্তত ৩০ মিনিট খেলানোর কথা জানিয়েছিলেন কোচ। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন জেসুস।

পরে সংবাদ সম্মেলনে কোচ বলেন, ম্যাচের পরিস্থিতি অনেক কিছু নির্ধারণ করে দেয়। রোনালদোকে নামানোর জন্য তখন উপযুক্ত সময় মনে হয়নি তাঁর।

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে পর্তুগালের অন্য খেলোয়াড়েরা দর্শকদের অভিবাদন জানাতে গ্যালারির দিকে গেলেও রোনালদো সরাসরি লকার রুমে চলে যান। পরদিন দলের অনুশীলনস্থলে গেলেও অনুশীলনে অংশ না নিয়ে ফিরে আসেন তিনি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে রোনালদো, কোচ জেসুস ও পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পাওলো প্রোয়েনসার মধ্যে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

সংবাদ সম্মেলনে জেসুস স্পষ্ট করেন, জাতীয় দলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সব খেলোয়াড়ের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য। খেলোয়াড়ের অতীত ও অর্জন বিবেচনায় নেওয়া হলেও মাঠে নামানো বা না নামানোর সিদ্ধান্ত কোচের।

তিনি বলেন, কোনো খেলোয়াড় কিংবা ফেডারেশনের সভাপতিও তাঁর কৌশলগত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবেন না। জাতীয় দলের দায়িত্বে থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কোচেরই।

জেসুসের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর দলের অনুশীলন শুরুর আগেই কোপেনহেগেনের পার্কেন স্টেডিয়াম ছেড়ে যান রোনালদো।

পরে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, কোচের সংবাদ সম্মেলন এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে আলোচনার পর জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রোনালদোর এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই পর্তুগালের ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। একই সঙ্গে জাতীয় দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারী কমে যাওয়ার ঘটনাটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রোনালদোর পর্তুগাল ক্যাম্প ছাড়ার পর পর্তুগালের ইনস্টাগ্রামে ৫ লাখ অনুসারী কমল

আপডেট সময় ১১:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চলে যাওয়াকে ঘিরে পর্তুগিজ ফুটবলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বড় ধাক্কা খেয়েছে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল। রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার খবর প্রকাশের পর এক দিনেরও কম সময়ে দলটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পাঁচ লাখের বেশি অনুসারী কমে গেছে।

পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকার জাতীয় দলে অবমূল্যায়ন হয়েছে কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে বিতর্ক। রোনালদোর সমর্থকদের একাংশ পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল বয়কটের ডাক দিয়েছেন।

রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার ঘোষণার আগে পর্তুগাল জাতীয় দলের ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ছিল প্রায় ২ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার। পরবর্তী ১৮ ঘণ্টায় কমে যায় ৫ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি অনুসারী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ সংখ্যাটি নেমে আসে প্রায় ২ কোটি ৪৪ লাখে।

আরও পড়ুন  ইনস্টাগ্রামের নতুন ফিচার: ব্যবহারকারীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা

রোনালদোর এক সমর্থক এই পরিস্থিতিকে ‘ডিজিটাল বয়কট’ উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা পর্তুগালকে অনুসরণ করিনি, আমরা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অনুসরণ করেছি।’

উয়েফা নেশনস লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে পর্তুগালের হয়ে শুরু থেকেই খেলেছিলেন রোনালদো। তবে নরওয়ের বিপক্ষে পরের ম্যাচে তাঁকে প্রথম একাদশে রাখা হয়নি। কোচ হোর্হে জেসুসের দাবি, রোনালদোকে না খেলানোর বিষয়ে আগে থেকেই সমঝোতা হয়েছিল। তাঁর পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পান গনসালো রামোস।

তবে ম্যাচের আগে রোনালদোকে দ্বিতীয়ার্ধে অন্তত ৩০ মিনিট খেলানোর কথা জানিয়েছিলেন কোচ। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন জেসুস।

পরে সংবাদ সম্মেলনে কোচ বলেন, ম্যাচের পরিস্থিতি অনেক কিছু নির্ধারণ করে দেয়। রোনালদোকে নামানোর জন্য তখন উপযুক্ত সময় মনে হয়নি তাঁর।

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে পর্তুগালের অন্য খেলোয়াড়েরা দর্শকদের অভিবাদন জানাতে গ্যালারির দিকে গেলেও রোনালদো সরাসরি লকার রুমে চলে যান। পরদিন দলের অনুশীলনস্থলে গেলেও অনুশীলনে অংশ না নিয়ে ফিরে আসেন তিনি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে রোনালদো, কোচ জেসুস ও পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পাওলো প্রোয়েনসার মধ্যে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

সংবাদ সম্মেলনে জেসুস স্পষ্ট করেন, জাতীয় দলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সব খেলোয়াড়ের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য। খেলোয়াড়ের অতীত ও অর্জন বিবেচনায় নেওয়া হলেও মাঠে নামানো বা না নামানোর সিদ্ধান্ত কোচের।

তিনি বলেন, কোনো খেলোয়াড় কিংবা ফেডারেশনের সভাপতিও তাঁর কৌশলগত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবেন না। জাতীয় দলের দায়িত্বে থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কোচেরই।

জেসুসের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর দলের অনুশীলন শুরুর আগেই কোপেনহেগেনের পার্কেন স্টেডিয়াম ছেড়ে যান রোনালদো।

পরে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, কোচের সংবাদ সম্মেলন এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে আলোচনার পর জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রোনালদোর এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই পর্তুগালের ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। একই সঙ্গে জাতীয় দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারী কমে যাওয়ার ঘটনাটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।