ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান যেন ব্যর্থ না হয়: নাহিদ ইসলাম

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 214

ছবি সংগৃহীত

 

 

জুলাই মাসের ঘোষিত গণ-অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না এমন মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “আমরা বইয়ে ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস পড়েছি। কিন্তু বারবার জনগণের মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা জন্ম নিয়েছে, তা বাস্তবে পূরণ হয়নি। সেই ব্যর্থতারই ফল হিসেবে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আমরা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার শিকার হয়েছি। এবার আর কোনো ব্যর্থতা চাই না। জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণ করাই হবে জাতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার।”

আরও পড়ুন  জুলাই সনদ দলীয় হলে সার্বজনীনতা হারাবে: আন্দালিভ রহমান পার্থ

শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই আন্দোলনের লক্ষ্য কেবল শাসক পরিবর্তন নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যেখানে জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে, আর রাষ্ট্র চলবে জনগণের ইচ্ছায়। এনসিপির আত্মপ্রকাশ হয়েছে সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়। এই দলের মূল শক্তি দেশের তরুণ সমাজ। তারা চায়, ফ্যাসিবাদ বিলুপ্ত হোক এবং প্রতিষ্ঠিত হোক একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো।”

তিনি আরো বলেন, “সংস্কারের কথা বললেই অনেকে মনে করেন কেবল কিছু কসমেটিক পরিবর্তন বোঝানো হচ্ছে। কিন্তু এনসিপি যে সংস্কারের কথা বলে তা মৌলিক, গঠনমূলক এবং রূপান্তরমুখী। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামোর স্বপ্ন দেখি, যেখানে দলীয়করণ থাকবে না, সংবিধানে একনায়কতান্ত্রিক ধারা থাকবে না এবং জনগণের মতামতই হবে শাসনের ভিত্তি।”

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “গত কয়েক দশকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ, সংবিধানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তাধারার প্রতিফলন এবং বিচার ও নির্বাচনব্যবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তারই আজকের সংকটের মূল কারণ। তাই এনসিপি সংবিধান সংস্কার, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কমিশনের পাঠানো সুপারিশগুলো আমরা পর্যালোচনা করেছি। বেশিরভাগ প্রস্তাবের সঙ্গে আমাদের সম্মতি রয়েছে। কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও আমরা আমাদের পরামর্শ সংক্ষিপ্ত আকারে দিয়েছি। আজকের এই সভায় বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ তৈরি হওয়ায় কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

এই আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, অংশগ্রহণমূলক এবং জনসম্পৃক্ত ভবিষ্যতের পথে দেশ এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এনসিপি আহ্বায়ক।

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান যেন ব্যর্থ না হয়: নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় ০৩:৪৬:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫

 

 

জুলাই মাসের ঘোষিত গণ-অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না এমন মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “আমরা বইয়ে ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস পড়েছি। কিন্তু বারবার জনগণের মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা জন্ম নিয়েছে, তা বাস্তবে পূরণ হয়নি। সেই ব্যর্থতারই ফল হিসেবে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আমরা ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার শিকার হয়েছি। এবার আর কোনো ব্যর্থতা চাই না। জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণ করাই হবে জাতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার।”

আরও পড়ুন  জুলাই সনদ দলীয় হলে সার্বজনীনতা হারাবে: আন্দালিভ রহমান পার্থ

শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই আন্দোলনের লক্ষ্য কেবল শাসক পরিবর্তন নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যেখানে জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে, আর রাষ্ট্র চলবে জনগণের ইচ্ছায়। এনসিপির আত্মপ্রকাশ হয়েছে সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়। এই দলের মূল শক্তি দেশের তরুণ সমাজ। তারা চায়, ফ্যাসিবাদ বিলুপ্ত হোক এবং প্রতিষ্ঠিত হোক একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো।”

তিনি আরো বলেন, “সংস্কারের কথা বললেই অনেকে মনে করেন কেবল কিছু কসমেটিক পরিবর্তন বোঝানো হচ্ছে। কিন্তু এনসিপি যে সংস্কারের কথা বলে তা মৌলিক, গঠনমূলক এবং রূপান্তরমুখী। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামোর স্বপ্ন দেখি, যেখানে দলীয়করণ থাকবে না, সংবিধানে একনায়কতান্ত্রিক ধারা থাকবে না এবং জনগণের মতামতই হবে শাসনের ভিত্তি।”

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “গত কয়েক দশকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ, সংবিধানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তাধারার প্রতিফলন এবং বিচার ও নির্বাচনব্যবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তারই আজকের সংকটের মূল কারণ। তাই এনসিপি সংবিধান সংস্কার, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কমিশনের পাঠানো সুপারিশগুলো আমরা পর্যালোচনা করেছি। বেশিরভাগ প্রস্তাবের সঙ্গে আমাদের সম্মতি রয়েছে। কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও আমরা আমাদের পরামর্শ সংক্ষিপ্ত আকারে দিয়েছি। আজকের এই সভায় বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ তৈরি হওয়ায় কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

এই আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, অংশগ্রহণমূলক এবং জনসম্পৃক্ত ভবিষ্যতের পথে দেশ এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এনসিপি আহ্বায়ক।