ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:২৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 186

ছবি সংগৃহীত

 

বিএনপি একদিকে ঋণখেলাপি ও হত্যা মামলার আসামিদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছে, অন্যদিকে সংসদ সদস্যদের বৈধ সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়ে জনগণের সামনে ‘সাধু’ সাজার নাটক করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা একটি লোকদেখানো কৌশল মাত্র। প্রকৃতপক্ষে বড় বাজেটের মন্ত্রণালয়গুলো এমন ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে যারা বড় ব্যবসায়ী অথবা ঋণগ্রস্ত। এর ফলে তারা বৈধ সুবিধার চেয়ে মন্ত্রণালয় থেকে অবৈধ পন্থায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ পাবে। বিশেষ করে একজন আবাসন ব্যবসায়ী ও হত্যা মামলার আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি কেবল আর্থিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার জন্য করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ২-৩টি আসনের প্রস্তাব ও ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে এনসিপি কেনার সাধ্য কারো নেই: নাহিদ ইসলাম

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন ছিল, বর্তমান মন্ত্রিসভা গঠন ও ফলাফল কারচুপির কারণে তা ভঙ্গ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই মন্ত্রিসভায় কোনো আঞ্চলিক ভারসাম্য নেই; ২৫টি জেলা থেকে কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি এবং নারী বা সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণও নগণ্য। টিআইবির তথ্য উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বর্তমান মন্ত্রিসভার অর্ধেকের বেশি সদস্য ব্যবসায়ী, যারা জনগণের স্বার্থের চেয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থকেই প্রাধান্য দেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতা সুসংহত করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা যে ব্যক্তির নিয়োগের বিরোধিতা একসময় বিএনপি করেছিল, তাকেই কীভাবে নিজেদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিল? একইসঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা এবং রমজানকে কেন্দ্র করে বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অবিলম্বে জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় ০৬:২৯:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

বিএনপি একদিকে ঋণখেলাপি ও হত্যা মামলার আসামিদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছে, অন্যদিকে সংসদ সদস্যদের বৈধ সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়ে জনগণের সামনে ‘সাধু’ সাজার নাটক করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা একটি লোকদেখানো কৌশল মাত্র। প্রকৃতপক্ষে বড় বাজেটের মন্ত্রণালয়গুলো এমন ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে যারা বড় ব্যবসায়ী অথবা ঋণগ্রস্ত। এর ফলে তারা বৈধ সুবিধার চেয়ে মন্ত্রণালয় থেকে অবৈধ পন্থায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ পাবে। বিশেষ করে একজন আবাসন ব্যবসায়ী ও হত্যা মামলার আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি কেবল আর্থিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার জন্য করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কাল নিয়ে আমরা কোনো বক্তব্য করিনি: নাহিদ ইসলাম

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন ছিল, বর্তমান মন্ত্রিসভা গঠন ও ফলাফল কারচুপির কারণে তা ভঙ্গ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই মন্ত্রিসভায় কোনো আঞ্চলিক ভারসাম্য নেই; ২৫টি জেলা থেকে কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি এবং নারী বা সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণও নগণ্য। টিআইবির তথ্য উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বর্তমান মন্ত্রিসভার অর্ধেকের বেশি সদস্য ব্যবসায়ী, যারা জনগণের স্বার্থের চেয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থকেই প্রাধান্য দেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতা সুসংহত করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা যে ব্যক্তির নিয়োগের বিরোধিতা একসময় বিএনপি করেছিল, তাকেই কীভাবে নিজেদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিল? একইসঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা এবং রমজানকে কেন্দ্র করে বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অবিলম্বে জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানান।