ঢাকা ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

রোহিঙ্গা সহায়তায় জরুরি তহবিল আহ্বান জাতিসংঘের: ৯৪ কোটি ডলার সহায়তার আহ্বান  

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩৮:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫
  • / 256

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের টিকে থাকা এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। খাবার, জ্বালানি ও আশ্রয়ের মতো মৌলিক প্রয়োজন পূরণেও দেখা দিয়েছে বড় সংকট। এমন বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এবং আরও ১১৩টি সহযোগী সংস্থা মিলে ‘২০২৫-২০২৬ জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান’ নামে দুই বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প শুরু করেছে। এর আওতায় রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রথম বছরেই প্রায় ৯৪ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাগুলো।

আরও পড়ুন  ঢাকায় জাতিসংঘের নতুন ভবনের উদ্বোধন করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের

সোমবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দাতাদের সভায় রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন জাতিসংঘ কর্মকর্তারা। তারা জানান, মিয়ানমারের নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এসব শরণার্থীর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এখন আন্তর্জাতিক সহায়তা।

তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, গত আট বছরে বিশ্বমঞ্চে রোহিঙ্গা সংকটের গুরুত্ব অনেকটাই কমে গেছে। জাতিসংঘ সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য সহায়তা কমানোর ঘোষণাও দিয়েছে, যা এই বিপন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

জাতিসংঘের মতে, যদি তহবিল সংকটে রোহিঙ্গাদের ন্যূনতম খাবার, রান্নার জ্বালানি কিংবা আশ্রয় দেওয়া না যায়, তাহলে তা কেবল মানবিক বিপর্যয়ই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও হুমকির মুখে ফেলবে।

বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই পরিকল্পনার লক্ষ্য শুধু রোহিঙ্গাদের নয়, বরং আশ্রয়দানকারী স্থানীয় কমিউনিটিগুলোকেও সহায়তা প্রদান, যাতে টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তা না পেলে এই সংকট আরও গভীর হবে। তাই এখনই রোহিঙ্গা ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মত জাতিসংঘের।

নিউজটি শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা সহায়তায় জরুরি তহবিল আহ্বান জাতিসংঘের: ৯৪ কোটি ডলার সহায়তার আহ্বান  

আপডেট সময় ১০:৩৮:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫

 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের টিকে থাকা এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। খাবার, জ্বালানি ও আশ্রয়ের মতো মৌলিক প্রয়োজন পূরণেও দেখা দিয়েছে বড় সংকট। এমন বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এবং আরও ১১৩টি সহযোগী সংস্থা মিলে ‘২০২৫-২০২৬ জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান’ নামে দুই বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প শুরু করেছে। এর আওতায় রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রথম বছরেই প্রায় ৯৪ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাগুলো।

আরও পড়ুন  জাতিসংঘ: ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জুলাই অভ্যুত্থানে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে

সোমবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দাতাদের সভায় রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন জাতিসংঘ কর্মকর্তারা। তারা জানান, মিয়ানমারের নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এসব শরণার্থীর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এখন আন্তর্জাতিক সহায়তা।

তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, গত আট বছরে বিশ্বমঞ্চে রোহিঙ্গা সংকটের গুরুত্ব অনেকটাই কমে গেছে। জাতিসংঘ সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য সহায়তা কমানোর ঘোষণাও দিয়েছে, যা এই বিপন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

জাতিসংঘের মতে, যদি তহবিল সংকটে রোহিঙ্গাদের ন্যূনতম খাবার, রান্নার জ্বালানি কিংবা আশ্রয় দেওয়া না যায়, তাহলে তা কেবল মানবিক বিপর্যয়ই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও হুমকির মুখে ফেলবে।

বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই পরিকল্পনার লক্ষ্য শুধু রোহিঙ্গাদের নয়, বরং আশ্রয়দানকারী স্থানীয় কমিউনিটিগুলোকেও সহায়তা প্রদান, যাতে টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তা না পেলে এই সংকট আরও গভীর হবে। তাই এখনই রোহিঙ্গা ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মত জাতিসংঘের।