ঢাকা ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ আজ নাটোরে ৪৫ টাকা চা বিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২ মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত, আহত ১৫ শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের যাতায়াত সহজে বিশেষ বাস সেবা চালু ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত বিমানবাহিনী ছেড়ে এবার যাত্রীবাহী বিমান চালাবেন অভিনন্দন

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জরুরি সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ: প্রধান উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৪৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫
  • / 547

ছবি সংগৃহীত

 

 

মিয়ানমারে চলমান সশস্ত্র সংঘর্ষ, সীমান্তে গুলিবর্ষণ এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আরও পড়ুন  এনসিপির আন্তর্জাতিক সেল গঠন

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অস্থিরতা যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা পুরো অঞ্চলের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা হুমকিতে পরিণত হতে পারে। তিনি মনে করেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এখনই একটি সমন্বিত ও কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

আজ রবিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি-জেনারেল জ্যাঁ-পিয়েরে লাক্রোয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

সাক্ষাতের সময় ড. ইউনূস জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই সফর রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের আশাকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করেছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ১০টি মিশনে বাংলাদেশের ৫,৬৭৭ জন সেনা ও পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। এ সময় তিনি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি নারীদের শান্তিরক্ষা মিশনে যুক্ত করতে আমি বিশেষভাবে উৎসাহিত করছি।’ একইসঙ্গে তিনি জাতিসংঘের প্রতিটি পর্যায়ে নারীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য সমর্থন চান।

জাতিসংঘ আন্ডার সেক্রেটারি-জেনারেল জ্যাঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া বলেন, শান্তিরক্ষায় নারীদের ভূমিকা বাড়াতে জাতিসংঘ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট দায়িত্বে নয়, বরং সকল স্তরে নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতেই তারা কাজ করছে।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ ‘পিসকিপিং ক্যাপাবিলিটি রেডিনেস সিস্টেমে’ পাঁচটি ইউনিটকে র‍্যাপিড ডিপ্লয়মেন্ট পর্যায়ে রেখেছে এবং অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তর এবং মিশন উভয় পর্যায়ে নেতৃত্বমূলক অবস্থানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির আহ্বান জানান। মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জানানো হয়, আগামী ১৩ থেকে ১৪ মে জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশ একটি প্রতিনিধিদল পাঠাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জরুরি সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৫:৪৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫

 

 

মিয়ানমারে চলমান সশস্ত্র সংঘর্ষ, সীমান্তে গুলিবর্ষণ এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আরও পড়ুন  বড়লেখা সীমান্তে ১৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বিজিবি

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অস্থিরতা যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা পুরো অঞ্চলের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা হুমকিতে পরিণত হতে পারে। তিনি মনে করেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এখনই একটি সমন্বিত ও কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

আজ রবিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি-জেনারেল জ্যাঁ-পিয়েরে লাক্রোয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

সাক্ষাতের সময় ড. ইউনূস জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই সফর রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের আশাকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করেছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ১০টি মিশনে বাংলাদেশের ৫,৬৭৭ জন সেনা ও পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। এ সময় তিনি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি নারীদের শান্তিরক্ষা মিশনে যুক্ত করতে আমি বিশেষভাবে উৎসাহিত করছি।’ একইসঙ্গে তিনি জাতিসংঘের প্রতিটি পর্যায়ে নারীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য সমর্থন চান।

জাতিসংঘ আন্ডার সেক্রেটারি-জেনারেল জ্যাঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া বলেন, শান্তিরক্ষায় নারীদের ভূমিকা বাড়াতে জাতিসংঘ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট দায়িত্বে নয়, বরং সকল স্তরে নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতেই তারা কাজ করছে।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ ‘পিসকিপিং ক্যাপাবিলিটি রেডিনেস সিস্টেমে’ পাঁচটি ইউনিটকে র‍্যাপিড ডিপ্লয়মেন্ট পর্যায়ে রেখেছে এবং অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তর এবং মিশন উভয় পর্যায়ে নেতৃত্বমূলক অবস্থানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির আহ্বান জানান। মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জানানো হয়, আগামী ১৩ থেকে ১৪ মে জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশ একটি প্রতিনিধিদল পাঠাবে।