ইরান যুদ্ধ থামাতে মার্কিন পরিষদে প্রস্তাব পাস, চাপে ট্রাম্প
- আপডেট সময় ১০:২২:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
- / 1
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যাতে কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন ছাড়া ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে না পারেন, সেই ক্ষমতা সীমিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস)। স্থানীয় সময় বুধবার (৩ জুন) ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাটদের আনা এই ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটের ব্যবধানে পাস হয়। মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে (প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট) ট্রাম্পের নিজস্ব দল রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেওয়ায় এই প্রস্তাব পাস হওয়াকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাস হওয়া এই প্রস্তাবটিতে স্পষ্ট করে কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। কারণ এটি কার্যকর করতে হলে উচ্চকক্ষ সিনেটেও পাস হতে হবে এবং পরবর্তীতে ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভেটো (বাতিল করার ক্ষমতা) অতিক্রম করতে উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি বা সমর্থনের প্রয়োজন পড়বে।
তা সত্ত্বেও রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেসে এই প্রস্তাব পাস হওয়া ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে আইনপ্রণেতাদের অসন্তোষের একটি বড় রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশ। এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে এমন তিনটি উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও প্রতিবারই ভোটের ব্যবধান ক্রমান্বয়ে কমেছে।
মূলত ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার আগে ট্রাম্প কংগ্রেসের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেননি। তিনি এই যুদ্ধকে বড় কোনো যুদ্ধ না বলে ‘ছোটখাটো সংঘর্ষ’ বা ‘স্বল্পমেয়াদি সামরিক অভিযান’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন। তবে মার্কিন সংবিধানে যুদ্ধ ঘোষণা করার একক ক্ষমতা যেখানে একমাত্র কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত, সেখানে ট্রাম্পের বারবার এমন একক সামরিক শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত অনেক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাকেও হতাশ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে চতুর্থবারের মতো বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পকে কংগ্রেসের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে গত ২১ মে কংগ্রেসের মেমোরিয়াল ডে অবকাশ শুরুর ঠিক আগের দিন এই ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্টের ওপর ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রস্তাবটি ট্রাম্পের নিজের দলের সমর্থন নিয়ে পাস হয়ে যেতে পারে—এমন আভাস পেয়ে শেষ মুহূর্তে ভোটটি বাতিল করেছিলেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও হাউস স্পিকার মাইক জনসন। তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই কৌশলে প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন মুলতবি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা শুরু করে। আগামী শনিবার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ১০০ দিন পূর্ণ হতে যাচ্ছে। যদিও গত ৮ এপ্রিল থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর রয়েছে, তবুও এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের সামরিক ঘাঁটিতে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝেই ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়াতে এই প্রস্তাব পাস হলো বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।




















