ইরানের আর হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও
- আপডেট সময় ১২:২০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
- / 20
ইরানের অভ্যন্তরে দীর্ঘ সময় ধরে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সামরিক অভিযান বা হামলা বন্ধ করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেওয়া কয়েক মাসের তীব্র সংঘাতের পর অবশেষে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ তার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সামনে দেওয়া এক বিবৃতিতে রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন এখন আর ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে দেশটির ভেতরে কোনো ধারাবাহিক ও অনবরত আক্রমণ পরিচালনা করছে না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইনপ্রণেতাদের কাছে যুক্তি দিয়ে বলেন, এই সামরিক অপারেশনটি সফলভাবে ইরানের প্রতিরক্ষা-শিল্প ঘাঁটির একটি বড় অংশ ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে এটি তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও ড্রোনের মজুত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে এনেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বজায় থাকার সময়েই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য সামনে এলো।
এই চলমান যুদ্ধবিরতির মাঝেই সাম্প্রতিকতম চরম উত্তেজনার অংশ হিসেবে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের একটি বড় ড্রোন হামলা আঘাত হানে। এর ফলে একটি যাত্রীবাহী টার্মিনাল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হন এবং আরও ডজনখানেক মানুষ আহত হন। এই ভয়াবহ হামলার কারণে বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে যারা নিজেদের এই সংঘাত থেকে নিরাপদ মনে করেছিল, সেই উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে এই ঘটনার পর নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
চলতি বছরে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন চতুর্থ মাসে পদার্পণ করেছে, যা একই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্র চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। ইরান এখনো বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’-এর ওপর নিজস্ব সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এর বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের প্রধান প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করছেন এবং এই পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করার জন্য এটিকে ‘চূড়ান্ত অংশ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রুবিও আইনপ্রণেতাদের আশ্বস্ত করে আরও বলেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা এবং প্রচেষ্টা এখনো পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির মতো কোনো দুর্বল চুক্তি আবার হতে পারে কি না—এমন উদ্বেগের জবাবে রুবিও জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো চুক্তি অবশ্যই আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর হবে। যৌথ ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ-এর কথা উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করেন যে, শেষ পর্যন্ত তারা যদি কোনো চুক্তি করেন তবে তা একটি ভালো ও শক্তিশালী চুক্তি হবে, অন্যথায় কোনো চুক্তিই হবে না। এটি নিশ্চিতভাবেই জেসিপিওএ-এর চেয়ে অনেক ভালো হবে, যা থেকে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বের হয়ে এসেছিলেন।






















