ঢাকা ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

সুন্দরবনের ১০ কিমিতে শিল্প স্থাপনায় নিষেধাজ্ঞা, সরকারী প্রজ্ঞাপন জারি

সুন্দরবন, নিষেধাজ্ঞা, শিল্পস্থাপন, সরকারিপ্রজ্ঞাপন
  • আপডেট সময় ০৭:১১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫
  • / 309

ছবি সংগৃহীত

 

সুন্দরবন সংলগ্ন ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নতুন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। সোমবার (১২ মে) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করে।

প্রজ্ঞাপনটি স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান। এতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ধারা ৫ অনুযায়ী সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্টের চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকা ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)’ হিসেবে ঘোষিত। ওই এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় নতুন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প স্থাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে উল্লাসে মেতে উঠলো সিরিয়ার জনতা

তবে এই এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশগত মান উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইসিএ হিসেবে ঘোষিত এলাকাগুলোতে এমনিতেই পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ কঠোর। কিন্তু বাস্তবে সেখানে নানা শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যার ফলে সুন্দরবনের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই সরকার নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এর আগে গত ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন কমিটির নির্বাহী কমিটির ১৬তম সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই ১২ মে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সরকারের এই উদ্যোগকে পরিবেশবাদীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সুন্দরবনের আশপাশে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন রোধে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি শুধু বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন রক্ষাই নয়, পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিতেও সহায়ক হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে এর আশপাশের অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

সুন্দরবনের ১০ কিমিতে শিল্প স্থাপনায় নিষেধাজ্ঞা, সরকারী প্রজ্ঞাপন জারি

আপডেট সময় ০৭:১১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫

 

সুন্দরবন সংলগ্ন ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নতুন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। সোমবার (১২ মে) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করে।

প্রজ্ঞাপনটি স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান। এতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ধারা ৫ অনুযায়ী সুন্দরবন রিজার্ভ ফরেস্টের চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকা ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)’ হিসেবে ঘোষিত। ওই এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় নতুন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প স্থাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইলিশ ধরাই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

তবে এই এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশগত মান উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইসিএ হিসেবে ঘোষিত এলাকাগুলোতে এমনিতেই পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ কঠোর। কিন্তু বাস্তবে সেখানে নানা শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যার ফলে সুন্দরবনের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই সরকার নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এর আগে গত ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন কমিটির নির্বাহী কমিটির ১৬তম সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই ১২ মে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সরকারের এই উদ্যোগকে পরিবেশবাদীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সুন্দরবনের আশপাশে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন রোধে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি শুধু বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন রক্ষাই নয়, পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিতেও সহায়ক হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনের প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে এর আশপাশের অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।