অ্যাপলকে ৭০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
- আপডেট সময় ০৮:৩৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 15
হ্যাপটিক ফিডব্যাক প্রযুক্তির পেটেন্ট মামলায় অ্যাপলকে প্রায় ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭০ হাজার ২২৫ কোটি টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। সান ডিয়াগোভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ট্যাকশন টেকনোলজির করা মামলায় এই রায় দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালত জানিয়েছে, অ্যাপলের ট্যাপটিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত দুটি পেটেন্ট ট্যাকশন টেকনোলজির কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাপলকে ওই অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
হেডফোন ও গেমিং হেডসেটসহ বিভিন্ন পণ্যের জন্য হ্যাপটিক প্রযুক্তি তৈরি করে ট্যাকশন টেকনোলজি। প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালে অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলাটি করে। তাদের অভিযোগ ছিল, কোনো অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়াই অ্যাপল তাদের পেটেন্ট করা প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন পণ্য বাজারজাত করছে।
তবে ট্যাকশনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ট্যাকশন টেকনোলজির প্রযুক্তির তুলনায় তাদের ব্যবহৃত ট্যাপটিক প্রযুক্তি মৌলিকভাবে আলাদা।
রায়ের পর অ্যাপল জানিয়েছে, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নিয়ে তারা দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করছে। একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মামলায় ট্যাকশন আরও অভিযোগ করেছিল, অ্যাপল তাদের উদ্ভাবন ও সাফল্য থেকে সুবিধা নিয়ে লাইসেন্স বা অনুমতি ছাড়াই পেটেন্ট করা প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।
অ্যাপলের ট্যাপটিক ইঞ্জিন আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচে স্পর্শের অনুভূতি তৈরি করতে সূক্ষ্ম কম্পন ব্যবহার করে। নোটিফিকেশন, বোতাম চাপার অনুভূতি এবং বিভিন্ন ফিচারে এই হ্যাপটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
অ্যাপল ২০১৪ সালে অ্যাপল ওয়াচে ট্যাপটিক ইঞ্জিন প্রযুক্তি চালু করে। পরে আইফোনসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য পণ্যেও প্রযুক্তিটি যুক্ত করা হয়। আইফোন ৬এস মডেলে প্রচলিত কম্পন মোটরের পরিবর্তে ট্যাপটিক ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছিল।
তবে আদালতের রায়ে অ্যাপল ইচ্ছাকৃতভাবে ট্যাকশন টেকনোলজির পেটেন্ট লঙ্ঘন করেছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। ফলে মামলায় ইচ্ছাকৃত পেটেন্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
অ্যাপলের জন্য এই রায় এমন সময়ে এলো, যখন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্বে পরিবর্তন চলছে। চলতি মাসের শুরুতে টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে জন টার্নাস অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।

























