ঢাকা ০২:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের তালিকা করবে গোয়েন্দা সংস্থা: আইজিপি পদত্যাগের পর হাসিমুখে পূজামণ্ডপে ইশরাক সৌদি আরবে নিহত নুরুল হকের পরিবার পেলেন ক্ষতিপূরণ বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে নেতানিয়াহুর, খুঁজছেন নতুন মিত্র সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার ববি হাজ্জাজের নিজ সন্তানের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

যুদ্ধবিরতিতে ভারত-পাকিস্তান, কিন্তু অনিশ্চিত সিন্ধু পানিচুক্তি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫
  • / 539

ছবি সংগৃহীত

 

 

টানা কয়েক দিনের সীমান্ত উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির পর অবশেষে ভারত ও পাকিস্তান গতকাল শনিবার (১০ মে) সন্ধ্যায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু পানিচুক্তি এখনো স্থগিত রয়েছে, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন  ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি ভারতের জন্য ইতিবাচক: সিআইআই

রয়টার্স-কে দেওয়া এক যৌথ প্রতিবেদনে উভয় দেশের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলেও পানিচুক্তি বিষয়ক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ভারতের একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, “চুক্তি নিয়ে আমাদের অবস্থানে এখনো কোনো নড়চড় হয়নি।” পাকিস্তানের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “সিন্ধু চুক্তি যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না।”

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানিচুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু নদী ও এর উপনদীগুলোর পানি দু’দেশের মধ্যে ভাগ করে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। পাকিস্তানের কৃষিক্ষেত্রে এই পানির ওপর প্রায় ৮০ শতাংশ নির্ভরশীল। এই চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের ‘জল কূটনীতি’র ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়।

তবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কাশ্মীরে হিন্দু পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর ভারতের পক্ষ থেকে চুক্তি স্থগিত করা হয়। দিল্লির দাবি, এই হামলার পেছনে ইসলামাবাদের মদদ রয়েছে। যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে এবং চুক্তি বাতিলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

কাশ্মীর হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সীমান্তে সামরিক তৎপরতা, বাণিজ্যিক যোগাযোগ বন্ধ এবং ভিসা কার্যক্রম স্থগিতসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে দুই দেশ। এমনকি ভারত দাবি করে, ৭ মে তারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে একাধিক সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

এর পর প্রতিদিনই সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে শেষ পর্যন্ত ১০ মে সন্ধ্যায় দু’পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। পাকিস্তান এই সমঝোতিকে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করলেও, ভারতের পক্ষ থেকে একে বলা হয়েছে ‘সকল সামরিক তৎপরতা বন্ধে সম্মতি’।

যুদ্ধবিরতি স্বস্তি দিলেও দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত, বিশেষ করে সিন্ধু পানিচুক্তি ও অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় কূটনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুদ্ধবিরতিতে ভারত-পাকিস্তান, কিন্তু অনিশ্চিত সিন্ধু পানিচুক্তি

আপডেট সময় ১২:১০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

 

 

টানা কয়েক দিনের সীমান্ত উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির পর অবশেষে ভারত ও পাকিস্তান গতকাল শনিবার (১০ মে) সন্ধ্যায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু পানিচুক্তি এখনো স্থগিত রয়েছে, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন  ভারতে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ৭ জন নিহত

রয়টার্স-কে দেওয়া এক যৌথ প্রতিবেদনে উভয় দেশের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলেও পানিচুক্তি বিষয়ক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ভারতের একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, “চুক্তি নিয়ে আমাদের অবস্থানে এখনো কোনো নড়চড় হয়নি।” পাকিস্তানের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, “সিন্ধু চুক্তি যুদ্ধবিরতির আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না।”

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানিচুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু নদী ও এর উপনদীগুলোর পানি দু’দেশের মধ্যে ভাগ করে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। পাকিস্তানের কৃষিক্ষেত্রে এই পানির ওপর প্রায় ৮০ শতাংশ নির্ভরশীল। এই চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের ‘জল কূটনীতি’র ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়।

তবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কাশ্মীরে হিন্দু পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর ভারতের পক্ষ থেকে চুক্তি স্থগিত করা হয়। দিল্লির দাবি, এই হামলার পেছনে ইসলামাবাদের মদদ রয়েছে। যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে এবং চুক্তি বাতিলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

কাশ্মীর হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সীমান্তে সামরিক তৎপরতা, বাণিজ্যিক যোগাযোগ বন্ধ এবং ভিসা কার্যক্রম স্থগিতসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে দুই দেশ। এমনকি ভারত দাবি করে, ৭ মে তারা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে একাধিক সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

এর পর প্রতিদিনই সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে শেষ পর্যন্ত ১০ মে সন্ধ্যায় দু’পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। পাকিস্তান এই সমঝোতিকে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করলেও, ভারতের পক্ষ থেকে একে বলা হয়েছে ‘সকল সামরিক তৎপরতা বন্ধে সম্মতি’।

যুদ্ধবিরতি স্বস্তি দিলেও দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত, বিশেষ করে সিন্ধু পানিচুক্তি ও অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় কূটনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।