ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের মঙ্গল কামনায় আর কোনো দেশ এতটা উন্মুখ নয়: জয়শঙ্কর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:২০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫
  • / 503

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আন্তরিকতা এবং শুভকামনা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি দাবি করেছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের মঙ্গল কামনায় আর কোনো দেশের মন এতটা উন্মুখ নয়, এবং এই অনুভূতি ভারতের ‘ডিএনএ’-তে গাঁথা।

বুধবার নয়াদিল্লিতে ‘রাইজিং ইন্ডিয়া সামিট ২০২৫’-এর দ্বিতীয় দিনে দেওয়া বক্তব্যে জয়শঙ্কর বলেন, “ভারতের মতো আর কোনো দেশ বাংলাদেশের মঙ্গল চায় না। এ সম্পর্ক অতীতের অভিজ্ঞতা ও জনগণের সঙ্গে জনগণের গভীর বন্ধনের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে।”

আরও পড়ুন  রাশিয়া থেকে ভারতের সস্তা তেল আমদানির নেপথ্যে মুকেশ আম্বানি

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট জানায়, জয়শঙ্কর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে বিশেষ করে মৌলবাদী প্রবণতা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ কী ভাবছে, তারা কী বলছে সেটা আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনছি। বন্ধু হিসেবে আমরা মনে করি, সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়াটাই তাদের জন্য মঙ্গলজনক।”

সম্প্রতি থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাৎ হয়। সেই আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর জোর দেন মোদি। এই প্রেক্ষাপটেই জয়শঙ্করের বক্তব্য এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জয়শঙ্কর বলেন, “আমাদের সম্পর্ক কেবল সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মূলত জনগণের সম্পর্ক। সেই কারণেই এটি অন্য যেকোনো প্রতিবেশী দেশের চেয়ে আলাদা।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে অচিরেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। “গণতান্ত্রিক দেশের জন্য নির্বাচন একটি অপরিহার্য প্রক্রিয়া। জনগণের ম্যান্ডেট দেওয়া ও পুনর্নবীকরণের মাধ্যম এটি। আমরা আশা করি বাংলাদেশ সেই পথেই এগিয়ে যাবে,” বলেন জয়শঙ্কর।

তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও শুভকামনা কৃত্রিম নয় এটি আমাদের রক্তে মিশে আছে।”

এই বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ পথচলার দিকনির্দেশনাও বটে বিশেষ করে যখন আঞ্চলিক রাজনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

বিষয় :

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের মঙ্গল কামনায় আর কোনো দেশ এতটা উন্মুখ নয়: জয়শঙ্কর

আপডেট সময় ০৪:২০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫

 

বাংলাদেশের প্রতি ভারতের আন্তরিকতা এবং শুভকামনা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি দাবি করেছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের মঙ্গল কামনায় আর কোনো দেশের মন এতটা উন্মুখ নয়, এবং এই অনুভূতি ভারতের ‘ডিএনএ’-তে গাঁথা।

বুধবার নয়াদিল্লিতে ‘রাইজিং ইন্ডিয়া সামিট ২০২৫’-এর দ্বিতীয় দিনে দেওয়া বক্তব্যে জয়শঙ্কর বলেন, “ভারতের মতো আর কোনো দেশ বাংলাদেশের মঙ্গল চায় না। এ সম্পর্ক অতীতের অভিজ্ঞতা ও জনগণের সঙ্গে জনগণের গভীর বন্ধনের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে।”

আরও পড়ুন  এক দশক পর ভারত-নিউজিল্যান্ডের ফের মুক্ত বাণিজ্য আলোচনার সূচনা

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট জানায়, জয়শঙ্কর বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে বিশেষ করে মৌলবাদী প্রবণতা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ কী ভাবছে, তারা কী বলছে সেটা আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনছি। বন্ধু হিসেবে আমরা মনে করি, সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়াটাই তাদের জন্য মঙ্গলজনক।”

সম্প্রতি থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাৎ হয়। সেই আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর জোর দেন মোদি। এই প্রেক্ষাপটেই জয়শঙ্করের বক্তব্য এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জয়শঙ্কর বলেন, “আমাদের সম্পর্ক কেবল সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মূলত জনগণের সম্পর্ক। সেই কারণেই এটি অন্য যেকোনো প্রতিবেশী দেশের চেয়ে আলাদা।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে অচিরেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। “গণতান্ত্রিক দেশের জন্য নির্বাচন একটি অপরিহার্য প্রক্রিয়া। জনগণের ম্যান্ডেট দেওয়া ও পুনর্নবীকরণের মাধ্যম এটি। আমরা আশা করি বাংলাদেশ সেই পথেই এগিয়ে যাবে,” বলেন জয়শঙ্কর।

তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও শুভকামনা কৃত্রিম নয় এটি আমাদের রক্তে মিশে আছে।”

এই বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ পথচলার দিকনির্দেশনাও বটে বিশেষ করে যখন আঞ্চলিক রাজনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।