নেপালের বন্যায় বন্ধ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ
- আপডেট সময় ১০:২৩:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 14
নেপালে আকস্মিক বন্যায় দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার পর থেকে কেন্দ্র দুটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নেপালে বর্ষাকালে নদ-নদীর পানিপ্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানি করে থাকে দেশটি।
ভারতের সঞ্চালন অবকাঠামো ব্যবহার করে সম্প্রতি নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছিল। তবে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমোদন পাওয়া দুটি কেন্দ্র বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেই সরবরাহ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য অনুমোদিত কেন্দ্র দুটির একটি হলো ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার চিলিমি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র। অন্যটি ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র। বন্যার ক্ষয়ক্ষতির কারণে গত সপ্তাহ থেকে উভয় কেন্দ্রেই উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ কাঠমান্ডু পোস্টকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি কেন্দ্রই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্য কোনো প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর অনুমতি দিতে ভারতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভারতের সঞ্চালন গ্রিড ব্যবহার করেই নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানো হচ্ছিল। এ বিদ্যুতের মূল্য মার্কিন ডলারে পরিশোধ করা হয়।
বন্যার প্রভাবে নেপালের আরও কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দেশটির বিদ্যুৎ রপ্তানির পরিমাণও কমেছে। আগে শুষ্ক মৌসুমে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমেছে।
একসময় শীত মৌসুমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়লে নেপালকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হতো। তবে গত কয়েক বছরে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ফলে এখন নিজেদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশটি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করছে।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট





















