আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় ১০:২২:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 31
আন্তর্জাতিক বাজারে দামের পরিবর্তন এবং দেশের ভেতরে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যয় বিবেচনায় নিয়েই ভোজ্যতেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মহাখালীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সয়াবিন তেল দেশে উৎপাদিত নয়; এর সরবরাহ মূলত আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়া-কমার প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই দেশের বাজারেও পড়ে। আমদানিকৃত ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি রয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের এফওবি (FOB) মূল্যের সঙ্গে জাহাজভাড়া, পণ্য খালাসের খরচ, বিমা, তেল পরিশোধন বা রিফাইনারির ব্যয় এবং পরিবহনের সময় সম্ভাব্য অপচয়ের খরচ যোগ করে স্থানীয় বাজারে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের সংশ্লিষ্ট ইনডেক্স অনুসরণ করে এই হিসাব যে কেউ যাচাই করতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এফওবি মূল্য বলতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পণ্য জাহাজে তোলা পর্যন্ত বিক্রেতার বহন করা ব্যয়কে বোঝায়। এরপরের পরিবহন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যয় ক্রেতা বা আমদানিকারকের ওপর বর্তায়।
এর আগে বুধবার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ভোজ্যতেলের দাম আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সময়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) প্রতি লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। তবে ভোক্তাদের স্বার্থ ও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার তুলনামূলক কম মাত্রায় দাম সমন্বয়ের পক্ষে অবস্থান নেয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, দেশে ভোজ্যতেলের বাজার ব্যবস্থাপনা মূলত বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ সময় আমদানিকারকরা লোকসানে থাকলে বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হয়ে সংকট তৈরি হতে পারে। তাই বাজারে পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা যাতে অতিরিক্ত লোকসানের কারণে বাজার থেকে সরে না যান, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে মূল্য নির্ধারণে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।



















