সকল ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ আফগানিস্তানে
- আপডেট সময় ০৬:৪০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 18
আফগানিস্তানে সব ধরনের বিক্ষোভ ও গণসমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে তালেবান সরকার। দেশটির নতুন ‘পুলিশ আইন’-এর ৫০ নম্বর ধারায় এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, নতুন আইনটি ইসলামি শরিয়াহর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার দাবি, বিক্ষোভ ইসলামি ব্যবস্থার অংশ নয়; বরং গণতান্ত্রিক ও প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ধরনের কর্মসূচি দেখা যায়।
তিনি বলেন, কোনো নাগরিকের অভিযোগ বা আপত্তি থাকলে রাস্তায় বিক্ষোভ না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা জানাতে হবে। বিক্ষোভের কারণে জনজীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সময়ের অপচয় এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পদের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
গত ২২ আগস্ট তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নতুন ‘শুরতা আইন’ অনুমোদন করেন। পাঁচটি অধ্যায় ও ৫৩টি ধারা নিয়ে তৈরি এই আইনে পুলিশের ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকদের ওপর বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, গুরুতর অপরাধে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বীকারোক্তি আদায়ের ক্ষেত্রে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আদালতের বিচার ছাড়াই আটকে রাখার সময়সীমাও তিন দিন থেকে বাড়িয়ে ১০ দিন করা হয়েছে।
এ ছাড়া কোনো অপরাধীকে প্রকাশ্যে বা শারীরিক শাস্তি দেওয়ার সময় সেই ঘটনার ছবি বা ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আদালতের নির্দিষ্ট নির্দেশ ছাড়া কোনো বন্দি বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে লাঠি বা চাবুক দিয়ে মারধর করা যাবে না বলেও আইনে উল্লেখ রয়েছে। নারী ও শিশুদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেও ইসলামি নিয়ম অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা!
বিক্ষোভ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, এটি তালেবান সরকারের ভিন্নমত দমনের ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও নতুন পুলিশ আইনকে আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে আফগানিস্তানের হেরাত শহরে নারীদের অধিকার নিয়ে একটি বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত দুজন নিহত হন। নতুন আইন কার্যকর হওয়ায় দেশটিতে ভবিষ্যতে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সুযোগ আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই দেশটিতে বিক্ষোভের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। নারী অধিকার, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা ও দমন-পীড়নের অভিযোগও রয়েছে।
























