ঢাকা ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

রোহিঙ্গাদের রেশন সংকট: জাতিসংঘের বরাদ্দ অর্ধেকে নামছে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:১৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫
  • / 301

ছবি সংগৃহীত

 

কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দ করা খাদ্য রেশন অর্ধেকেরও বেশি কমানোর পরিকল্পনা করেছে জাতিসংঘ। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানিয়েছে।

বুধবার (৬ মার্চ) শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমানকে পাঠানো এক চিঠিতে ডব্লিউএফপি জানায়, আগামী এপ্রিল মাস থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্ধারিত খাদ্য বরাদ্দ অর্ধেকেরও বেশি কমতে পারে। সংস্থাটি জানায়, অর্থ সংকটের কারণে তারা পূর্ববর্তী বরাদ্দ বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

আরও পড়ুন  পাহাড়ি জীবনের চ্যালেঞ্জ: খরার কারণে পানির সংকট

এর আগে, গত মঙ্গলবার মৌখিকভাবে রেশন কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল ডব্লিউএফপি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল থেকে রোহিঙ্গাদের মাথাপিছু মাসিক রেশন ১২.৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৬ ডলারে নামিয়ে আনা হবে। এ প্রসঙ্গে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, “ডব্লিউএফপি আমাদের জানিয়েছে যে, তারা রোহিঙ্গাদের জন্য মাথাপিছু প্রতি মাসে ১২.৫০ ডলার বরাদ্দ রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় দাতা না পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেশন কমানোর ফলে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে খাদ্য সংকট আরও প্রকট হতে পারে। ইতোমধ্যেই অনেক রোহিঙ্গা স্বল্প আহারের কারণে অপুষ্টিতে ভুগছে। নতুন এই সংকট তাদের মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দ্রুত এ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের কারণে দাতাদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো। তবে রোহিঙ্গাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মহলের আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরের ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছে। নতুন রেশন সংকটের কারণে তাদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রোহিঙ্গাদের রেশন সংকট: জাতিসংঘের বরাদ্দ অর্ধেকে নামছে

আপডেট সময় ০৫:১৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫

 

কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দ করা খাদ্য রেশন অর্ধেকেরও বেশি কমানোর পরিকল্পনা করেছে জাতিসংঘ। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি জানিয়েছে।

বুধবার (৬ মার্চ) শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমানকে পাঠানো এক চিঠিতে ডব্লিউএফপি জানায়, আগামী এপ্রিল মাস থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্ধারিত খাদ্য বরাদ্দ অর্ধেকেরও বেশি কমতে পারে। সংস্থাটি জানায়, অর্থ সংকটের কারণে তারা পূর্ববর্তী বরাদ্দ বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের চুরি হয়ে যাওয়া সম্পদ ফেরত পেতে বিশ্ব নেতাদের সহায়তা চাইলেন ড. ইউনূস

এর আগে, গত মঙ্গলবার মৌখিকভাবে রেশন কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল ডব্লিউএফপি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল থেকে রোহিঙ্গাদের মাথাপিছু মাসিক রেশন ১২.৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৬ ডলারে নামিয়ে আনা হবে। এ প্রসঙ্গে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, “ডব্লিউএফপি আমাদের জানিয়েছে যে, তারা রোহিঙ্গাদের জন্য মাথাপিছু প্রতি মাসে ১২.৫০ ডলার বরাদ্দ রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় দাতা না পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেশন কমানোর ফলে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে খাদ্য সংকট আরও প্রকট হতে পারে। ইতোমধ্যেই অনেক রোহিঙ্গা স্বল্প আহারের কারণে অপুষ্টিতে ভুগছে। নতুন এই সংকট তাদের মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দ্রুত এ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের কারণে দাতাদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো। তবে রোহিঙ্গাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মহলের আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরের ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছে। নতুন রেশন সংকটের কারণে তাদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।