ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান

‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • / 19

ছবি: সংগৃহীত


‎মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি ঠেকাতে প্রচলিত সুরক্ষাব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

‎প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনসংক্রান্ত খসড়া চুক্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে আলোচনা গত অক্টোবরেই শেষ হয়েছে।

‎সিএনএন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক ‘১২৩ চুক্তি’ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল এখনো মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হয়নি। কর্মকর্তাদের ধারণা, সম্ভাব্য দ্বিদলীয় বিরোধিতার আশঙ্কায় প্রশাসন এ বিষয়ে অপেক্ষার কৌশল নিয়েছে। কারণ, আগামী নির্বাচনের পর কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভারসাম্য পরিবর্তিত হলে চুক্তিটি বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

‎প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন, যাতে দেশটি নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পায়। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। গত বছর দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমানও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, ইয়েলোকেক উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তা বিক্রির পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন।

‎প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে সৌদি যুবরাজের সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় সৌদি আরবকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য ছিল। একই সময়ে সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষর করে। পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে পরিচিত।

‎সিএনএনের তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে জানায় যে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির পথে এগোচ্ছে। তবে ওই চুক্তিতে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা শর্ত রাখা হয়নি। খসড়া নথিতে ভবিষ্যতে সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। যদিও সংবেদনশীল কার্যক্রমে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা প্রয়োগের কথা উল্লেখ রয়েছে।

‎বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে স্পষ্টভাবে বিরত না রেখে এ ধরনের চুক্তি কার্যকর হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করা এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত না করার শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল।

‎প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আইনে কোনো দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পারমাণবিক উপাদান বা প্রযুক্তি রপ্তানির আগে ‘১২৩ চুক্তি’ কার্যকর থাকা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন আইনপ্রণেতারা সৌদি আরবের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ‘অ্যাডিশনাল প্রোটোকল’ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন, যাতে সংস্থাটি দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিদর্শনের অতিরিক্ত সুযোগ পায়।

‎রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন গত নভেম্বরে এ বিষয়ে কংগ্রেসের কয়েকটি কমিটিতে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেয়। সংবাদ সংস্থাটি বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক সমঝোতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, এমনকি তা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা নীতির প্রচলিত অবস্থান থেকে ভিন্ন পথে হাঁটতেও প্রস্তুত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎

আপডেট সময় ১২:৪৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


‎মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি ঠেকাতে প্রচলিত সুরক্ষাব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

‎প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনসংক্রান্ত খসড়া চুক্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে আলোচনা গত অক্টোবরেই শেষ হয়েছে।

‎সিএনএন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক ‘১২৩ চুক্তি’ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল এখনো মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হয়নি। কর্মকর্তাদের ধারণা, সম্ভাব্য দ্বিদলীয় বিরোধিতার আশঙ্কায় প্রশাসন এ বিষয়ে অপেক্ষার কৌশল নিয়েছে। কারণ, আগামী নির্বাচনের পর কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভারসাম্য পরিবর্তিত হলে চুক্তিটি বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

‎প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন, যাতে দেশটি নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পায়। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। গত বছর দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমানও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, ইয়েলোকেক উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তা বিক্রির পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন।

‎প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে সৌদি যুবরাজের সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় সৌদি আরবকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য ছিল। একই সময়ে সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষর করে। পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে পরিচিত।

‎সিএনএনের তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে জানায় যে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির পথে এগোচ্ছে। তবে ওই চুক্তিতে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা শর্ত রাখা হয়নি। খসড়া নথিতে ভবিষ্যতে সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। যদিও সংবেদনশীল কার্যক্রমে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা প্রয়োগের কথা উল্লেখ রয়েছে।

‎বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে স্পষ্টভাবে বিরত না রেখে এ ধরনের চুক্তি কার্যকর হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করা এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত না করার শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল।

‎প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আইনে কোনো দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পারমাণবিক উপাদান বা প্রযুক্তি রপ্তানির আগে ‘১২৩ চুক্তি’ কার্যকর থাকা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন আইনপ্রণেতারা সৌদি আরবের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ‘অ্যাডিশনাল প্রোটোকল’ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন, যাতে সংস্থাটি দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিদর্শনের অতিরিক্ত সুযোগ পায়।

‎রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন গত নভেম্বরে এ বিষয়ে কংগ্রেসের কয়েকটি কমিটিতে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেয়। সংবাদ সংস্থাটি বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক সমঝোতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, এমনকি তা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা নীতির প্রচলিত অবস্থান থেকে ভিন্ন পথে হাঁটতেও প্রস্তুত রয়েছে।