ঢাকা ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ট্রাম্পের শুল্কের ঘূর্ণিপাকে পড়ছে হাজার পোশাক কারখানা, বিপাকে মালিকরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫
  • / 410

ছবি সংগৃহীত

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর আরোপিত ৩৭ শতাংশ শুল্ক পুরোপুরি বাতিল না হলে বাংলাদেশের এই প্রধান রপ্তানি খাতকে প্রতি মাসে গড়ে ২৫০ মিলিয়ন ডলার শুল্ক দিতে হতে পারে। এতে প্রায় এক হাজার পোশাক কারখানা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিল্প নেতারা।

আরও পড়ুন  ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি: ‘আজ রাতেই বিলীন হতে পারে আস্ত এক সভ্যতা’

শনিবার বিকেলে উত্তরা জায়ান্ট বিজনেস টাওয়ারে বিজিএমইএ নির্বাচন ২০২৫–২০২৭ উপলক্ষে সম্মিলিত পরিষদের নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তারা এ উদ্বেগের কথা জানান।

বক্তারা বলেন, ক্রেতাদের ওপর সাধারণত শুল্ক পরিশোধের দায়িত্ব থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বায়িং প্যাটার্নে পরিবর্তন এসেছে। এখন অতিরিক্ত খরচের চাপ সরবরাহকারীদের ওপর পড়ে যাচ্ছে, যার ফলে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিকারকদের ওপর চাপ বাড়ছে।

সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল প্রধান মো. আবুল কালাম বলেন, মার্কিন বাজারে ৯০ দিনের জন্য শুল্ক স্থগিত রাখা একটি আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিয়ে সময় প্রার্থনা করেছেন, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ৯০ দিনের পর যেন একই শুল্ক বাধার মুখে না পড়তে হয়, সে জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে। এ ছাড়া, ড. ইউনূস যেন সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন, সে প্রত্যাশাও করেন তিনি।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও সম্মিলিত পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী ফারুক হাসান বলেন, তৈরি পোশাক খাতের অব্যাহত সাফল্যের পেছনে সম্মিলিত পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পেছানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

আমেরিকান বাজারে শুল্ক কাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, যদি শুল্কারোপ পারস্পরিক হতো, তবে বাংলাদেশের ওপর চাপ অনেকটাই কমত। কিন্তু আমেরিকা বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে একতরফাভাবে শুল্কারোপ করছে, যা আমাদের জন্য ক্ষতিকর।

সম্মিলিত পরিষদের সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, শুধু আমদানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন এ বিষয়ে কোনো অপ্রয়োজনীয় প্রতিশ্রুতি দেওয়া না হয় এবং বিজিএমইএর সকল সদস্যকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক, রফিকুল ইসলাম, শোভন ইসলাম, মোফাজ্জল হোসেন পাভেল, আসিফ আশরাফ ও আবরার হোসেন সায়েম।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রাম্পের শুল্কের ঘূর্ণিপাকে পড়ছে হাজার পোশাক কারখানা, বিপাকে মালিকরা

আপডেট সময় ১০:১৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর আরোপিত ৩৭ শতাংশ শুল্ক পুরোপুরি বাতিল না হলে বাংলাদেশের এই প্রধান রপ্তানি খাতকে প্রতি মাসে গড়ে ২৫০ মিলিয়ন ডলার শুল্ক দিতে হতে পারে। এতে প্রায় এক হাজার পোশাক কারখানা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিল্প নেতারা।

আরও পড়ুন  ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি: ‘আজ রাতেই বিলীন হতে পারে আস্ত এক সভ্যতা’

শনিবার বিকেলে উত্তরা জায়ান্ট বিজনেস টাওয়ারে বিজিএমইএ নির্বাচন ২০২৫–২০২৭ উপলক্ষে সম্মিলিত পরিষদের নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তারা এ উদ্বেগের কথা জানান।

বক্তারা বলেন, ক্রেতাদের ওপর সাধারণত শুল্ক পরিশোধের দায়িত্ব থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বায়িং প্যাটার্নে পরিবর্তন এসেছে। এখন অতিরিক্ত খরচের চাপ সরবরাহকারীদের ওপর পড়ে যাচ্ছে, যার ফলে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিকারকদের ওপর চাপ বাড়ছে।

সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল প্রধান মো. আবুল কালাম বলেন, মার্কিন বাজারে ৯০ দিনের জন্য শুল্ক স্থগিত রাখা একটি আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিয়ে সময় প্রার্থনা করেছেন, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ৯০ দিনের পর যেন একই শুল্ক বাধার মুখে না পড়তে হয়, সে জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে। এ ছাড়া, ড. ইউনূস যেন সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন, সে প্রত্যাশাও করেন তিনি।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও সম্মিলিত পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী ফারুক হাসান বলেন, তৈরি পোশাক খাতের অব্যাহত সাফল্যের পেছনে সম্মিলিত পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পেছানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

আমেরিকান বাজারে শুল্ক কাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, যদি শুল্কারোপ পারস্পরিক হতো, তবে বাংলাদেশের ওপর চাপ অনেকটাই কমত। কিন্তু আমেরিকা বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে একতরফাভাবে শুল্কারোপ করছে, যা আমাদের জন্য ক্ষতিকর।

সম্মিলিত পরিষদের সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, শুধু আমদানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন এ বিষয়ে কোনো অপ্রয়োজনীয় প্রতিশ্রুতি দেওয়া না হয় এবং বিজিএমইএর সকল সদস্যকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক, রফিকুল ইসলাম, শোভন ইসলাম, মোফাজ্জল হোসেন পাভেল, আসিফ আশরাফ ও আবরার হোসেন সায়েম।