ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

‘জাস্টিস ফর রামিসা’: প্ল্যাকার্ড হাতে মিরপুরের শিশু, অভিভাবক, শিক্ষকেরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • / 125

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির মেধাবী শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর বর্বরোচিত ও নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ অভিভাবক একত্রিত হয়ে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

সকালে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে নিহত রামিসার বাসার সামনে থেকে ‘মিরপুর এ এইচ মডেল স্কুল’-এর ব্যানারে এই প্রতিবাদী মিছিলটি শুরু হয়।

আরও পড়ুন  কুলখানির জন্য মুন্সীগঞ্জের পথে রামিসার বাবা-মা

পরে মিছিলটি ওই এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক ও লিংক রোড প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশ নেওয়া প্রতিবাদকারীদের একটি বড় অংশই ছিল ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী অবুঝ ও খুদে শিশু। তারা হাতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ (আমরা ন্যায়বিচার চাই) এবং ‘জাস্টিস ফর রামিসা’ (রামিসা হত্যার বিচার চাই) লেখা সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে গগনবিদারী স্লোগান দিতে থাকে, যা উপস্থিত সাধারণ পথচারীদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।

বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে যেভাবে পাশবিকভাবে ধর্ষণের পর টুকরো টুকরো করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।

যদিও পুলিশ মূল অভিযুক্ত নরপিশাচ জাকির ও তার স্ত্রীকে দ্রুত গ্রেফতার করেছে এবং তারা অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে, তবুও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে শঙ্কা রয়েছে। এই কারণে অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

সংহতি প্রকাশ করতে আসা মিরপুর এ এইচ মডেল স্কুলের একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, পপুলার মডেল স্কুলের এই খুদে শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া বীভৎস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাতে আমরা সব শিক্ষকেরা একাত্মতা প্রকাশ করেছি। ভবিষ্যতে দেশের বুকে আর কোনো শিশু যেন এমন পৈশাচিক লালসার শিকার না হয়, সেজন্য খুনিদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই বিচার যদি কোনো কারণে দীর্ঘায়িত হয়, তবে সাধারণ অভিভাবকদের মনে আতঙ্ক আরও বাড়বে এবং অনেকেই নিজেদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাবেন। তাই প্রচলিত আদালতের পরিবর্তে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জোর দাবি জানান তিনি। একই সাথে দেশের প্রায় ৬৫ হাজার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে সংহতি প্রকাশ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মায়েরা ও সাধারণ অভিভাবকেরা মিরপুর এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, এই এলাকায় এর আগেও একাধিক শিশু নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারেনি। পাড়া-মহল্লায় সিসি ক্যামেরা লাগানো থাকলেও সেগুলোর যথাযথ তদারকি বা ব্যবহার দেখা যায় না।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের কাছে অবিলম্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ঘাতক জাকির ও তার সহযোগীর ফাঁসি কার্যকরের জোর দাবি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘জাস্টিস ফর রামিসা’: প্ল্যাকার্ড হাতে মিরপুরের শিশু, অভিভাবক, শিক্ষকেরা

আপডেট সময় ০১:০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির মেধাবী শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর বর্বরোচিত ও নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ অভিভাবক একত্রিত হয়ে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

সকালে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে নিহত রামিসার বাসার সামনে থেকে ‘মিরপুর এ এইচ মডেল স্কুল’-এর ব্যানারে এই প্রতিবাদী মিছিলটি শুরু হয়।

আরও পড়ুন  রামিসা হত্যা: আদালতে নেওয়া হয়েছে আসামিদের

পরে মিছিলটি ওই এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক ও লিংক রোড প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশ নেওয়া প্রতিবাদকারীদের একটি বড় অংশই ছিল ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী অবুঝ ও খুদে শিশু। তারা হাতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ (আমরা ন্যায়বিচার চাই) এবং ‘জাস্টিস ফর রামিসা’ (রামিসা হত্যার বিচার চাই) লেখা সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে গগনবিদারী স্লোগান দিতে থাকে, যা উপস্থিত সাধারণ পথচারীদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।

বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে যেভাবে পাশবিকভাবে ধর্ষণের পর টুকরো টুকরো করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।

যদিও পুলিশ মূল অভিযুক্ত নরপিশাচ জাকির ও তার স্ত্রীকে দ্রুত গ্রেফতার করেছে এবং তারা অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে, তবুও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে শঙ্কা রয়েছে। এই কারণে অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।

সংহতি প্রকাশ করতে আসা মিরপুর এ এইচ মডেল স্কুলের একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, পপুলার মডেল স্কুলের এই খুদে শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া বীভৎস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাতে আমরা সব শিক্ষকেরা একাত্মতা প্রকাশ করেছি। ভবিষ্যতে দেশের বুকে আর কোনো শিশু যেন এমন পৈশাচিক লালসার শিকার না হয়, সেজন্য খুনিদের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই বিচার যদি কোনো কারণে দীর্ঘায়িত হয়, তবে সাধারণ অভিভাবকদের মনে আতঙ্ক আরও বাড়বে এবং অনেকেই নিজেদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাবেন। তাই প্রচলিত আদালতের পরিবর্তে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জোর দাবি জানান তিনি। একই সাথে দেশের প্রায় ৬৫ হাজার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে সংহতি প্রকাশ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মায়েরা ও সাধারণ অভিভাবকেরা মিরপুর এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, এই এলাকায় এর আগেও একাধিক শিশু নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারেনি। পাড়া-মহল্লায় সিসি ক্যামেরা লাগানো থাকলেও সেগুলোর যথাযথ তদারকি বা ব্যবহার দেখা যায় না।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের কাছে অবিলম্বে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ঘাতক জাকির ও তার সহযোগীর ফাঁসি কার্যকরের জোর দাবি জানান।