তারেক রহমানের চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে: মির্জা ফখরুল
- আপডেট সময় ০৪:২১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
- / 20
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গতিশীল হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে কেন্দ্র করে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের একটি অংশ উচ্চশিক্ষা ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের জন্য চীনে যাচ্ছে, যা দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করছে। তার ভাষ্য, তারেক রহমানের সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন গতি দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে এবং অতীতের প্রতিকূল সময়েও সেই যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।
তিনি আরও বলেন, চীন শুধু আওয়ামী লীগের সঙ্গে নয়, বিএনপিসহ বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বিএনপি চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক স্বার্থে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। পাশাপাশি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহ রয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বর্তমান সম্পর্ক ইতোমধ্যে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণ, সৌরবিদ্যুৎ এবং সবুজ জ্বালানি খাতে চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য চীনের হাইস্পিড ট্রেন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে তারা আগ্রহী। তার মতে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটকে এ প্রযুক্তির আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ইস্যুতে চীন সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জান মিল্লাতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, পারস্পরিক আস্থা, সম্মান, উন্নয়ন সহযোগিতা ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আগামী দিনে আরও সম্প্রসারিত হবে।

























