ইরানের বিলবোর্ডে কফিনবন্দি ট্রাম্প পরিবারের ছবি
- আপডেট সময় ০৭:৩৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
- / 0
ইরানের রাজধানী তেহরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের ছবি সংবলিত একটি নতুন বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। মার্কিন পতাকায় মোড়ানো কফিনের ওপর ট্রাম্প পরিবারের ছবি ব্যবহার করে সেখানে ফার্সি ভাষায় ‘রক্তের বদলে রক্ত’ স্লোগান প্রদর্শন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।
বিলবোর্ডে জ্বলন্ত হোয়াইট হাউসের পটভূমিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং তার পাঁচ সন্তান—ইভাঙ্কা, ডন জুনিয়র, এরিক, টিফানি ও ব্যারন ট্রাম্পের ছবি স্থান পেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি দ্বিতীয়বারের মতো তেহরানে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে এ ধরনের প্রতীকী বিলবোর্ড স্থাপন করা হলো। এর আগে রাজধানীর ইনকিলাব চত্বরে স্থাপিত আরেকটি বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে একটি কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছিল।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও আদর্শিক বার্তা প্রচারে জনসমাগমস্থল ব্যবহার করে আসছে। তবে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে যুদ্ধ, বিপ্লব এবং রাষ্ট্রীয় বার্তাবিষয়ক বড় বড় বিলবোর্ড স্থাপনের কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের ভালিয়াসর স্কয়ারের এসব দেয়ালচিত্র ও বিলবোর্ড ডিজাইন করেছে ওজ আর্টস অ্যান্ড মিডিয়া অর্গানাইজেশন, যা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
এদিকে গত সপ্তাহে এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার বাবার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেন। টেলিগ্রামে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি বলেন, প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং দায়ীদের শান্তিতে মৃত্যু হবে না। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর দেশটির শীর্ষ নেতারা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বারবার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান যদি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হয়, তাহলে তার অনুপস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বোমা হামলা চালানোর নির্দেশ আগে থেকেই দিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ইরানের লক্ষ্যবস্তু।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানি সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প ইরানের টার্গেটে রয়েছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তার ভ্রমণ পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছিল বলে হোয়াইট হাউস স্বীকার করেছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বৃহৎ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে কয়েক ডজন রিফুয়েলিং বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিতে পারেন।



















