ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক: অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 391

ছবি: সংগৃহীত

 

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন। ইতোমধ্যে ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা পড়েছে এবং তা অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে।

রাজনৈতিক মহল এবং বিশেষজ্ঞরা এসব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে মতামত দিচ্ছেন। কেউ এটিকে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সংশয় প্রকাশ করছেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোও সংস্কার নিয়ে অনানুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যা এই বৈঠকের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আরও পড়ুন  অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিলেন সি আর আবরার

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা। অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী হস্তক্ষেপ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা এবং সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের একীভূত হওয়া এসব সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করাই আজ সময়ের দাবি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলোপের পর থেকে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপিসহ কিছু দল দাবি করছে, তারা বহু আগেই সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং সরকারের প্রস্তাবের সঙ্গে তাতে মৌলিক পার্থক্য নেই। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে না, বরং সীমিত সংস্কারের পরেই নির্বাচন দেওয়া উচিত।

প্রশ্ন হলো, কীভাবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব? অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হলো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এমন একটি রূপরেখা তৈরি করা, যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। সরকার ইতোমধ্যে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, যাতে এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ না হয়।

আগের সংলাপগুলো সংক্ষিপ্ত হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ ছিল যে তারা পর্যাপ্ত মতামত জানাতে পারেনি। এবার সেই ভুল না করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে এটাই এখন জনগণের প্রত্যাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক: অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় ১১:০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন। ইতোমধ্যে ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা পড়েছে এবং তা অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে।

রাজনৈতিক মহল এবং বিশেষজ্ঞরা এসব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে মতামত দিচ্ছেন। কেউ এটিকে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সংশয় প্রকাশ করছেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোও সংস্কার নিয়ে অনানুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যা এই বৈঠকের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আরও পড়ুন  অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা। অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী হস্তক্ষেপ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা এবং সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের একীভূত হওয়া এসব সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করাই আজ সময়ের দাবি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলোপের পর থেকে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপিসহ কিছু দল দাবি করছে, তারা বহু আগেই সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং সরকারের প্রস্তাবের সঙ্গে তাতে মৌলিক পার্থক্য নেই। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে না, বরং সীমিত সংস্কারের পরেই নির্বাচন দেওয়া উচিত।

প্রশ্ন হলো, কীভাবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব? অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হলো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এমন একটি রূপরেখা তৈরি করা, যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। সরকার ইতোমধ্যে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, যাতে এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ না হয়।

আগের সংলাপগুলো সংক্ষিপ্ত হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ ছিল যে তারা পর্যাপ্ত মতামত জানাতে পারেনি। এবার সেই ভুল না করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে এটাই এখন জনগণের প্রত্যাশা।