ঢাকা ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক: অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 222

ছবি: সংগৃহীত

 

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন। ইতোমধ্যে ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা পড়েছে এবং তা অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে।

রাজনৈতিক মহল এবং বিশেষজ্ঞরা এসব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে মতামত দিচ্ছেন। কেউ এটিকে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সংশয় প্রকাশ করছেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোও সংস্কার নিয়ে অনানুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যা এই বৈঠকের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আরও পড়ুন  অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা। অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী হস্তক্ষেপ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা এবং সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের একীভূত হওয়া এসব সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করাই আজ সময়ের দাবি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলোপের পর থেকে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপিসহ কিছু দল দাবি করছে, তারা বহু আগেই সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং সরকারের প্রস্তাবের সঙ্গে তাতে মৌলিক পার্থক্য নেই। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে না, বরং সীমিত সংস্কারের পরেই নির্বাচন দেওয়া উচিত।

প্রশ্ন হলো, কীভাবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব? অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হলো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এমন একটি রূপরেখা তৈরি করা, যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। সরকার ইতোমধ্যে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, যাতে এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ না হয়।

আগের সংলাপগুলো সংক্ষিপ্ত হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ ছিল যে তারা পর্যাপ্ত মতামত জানাতে পারেনি। এবার সেই ভুল না করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে এটাই এখন জনগণের প্রত্যাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক: অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় ১১:০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন। ইতোমধ্যে ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা পড়েছে এবং তা অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে।

রাজনৈতিক মহল এবং বিশেষজ্ঞরা এসব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে মতামত দিচ্ছেন। কেউ এটিকে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সংশয় প্রকাশ করছেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোও সংস্কার নিয়ে অনানুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যা এই বৈঠকের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আরও পড়ুন  আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে জামায়েতের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি অন্তর্বর্তী সরকার: জামায়াত আমীর

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা। অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী হস্তক্ষেপ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা এবং সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের একীভূত হওয়া এসব সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করাই আজ সময়ের দাবি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলোপের পর থেকে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপিসহ কিছু দল দাবি করছে, তারা বহু আগেই সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং সরকারের প্রস্তাবের সঙ্গে তাতে মৌলিক পার্থক্য নেই। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে না, বরং সীমিত সংস্কারের পরেই নির্বাচন দেওয়া উচিত।

প্রশ্ন হলো, কীভাবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব? অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হলো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এমন একটি রূপরেখা তৈরি করা, যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। সরকার ইতোমধ্যে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, যাতে এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ না হয়।

আগের সংলাপগুলো সংক্ষিপ্ত হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ ছিল যে তারা পর্যাপ্ত মতামত জানাতে পারেনি। এবার সেই ভুল না করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে এটাই এখন জনগণের প্রত্যাশা।