ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা

ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক: অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 390

ছবি: সংগৃহীত

 

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন। ইতোমধ্যে ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা পড়েছে এবং তা অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে।

রাজনৈতিক মহল এবং বিশেষজ্ঞরা এসব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে মতামত দিচ্ছেন। কেউ এটিকে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সংশয় প্রকাশ করছেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোও সংস্কার নিয়ে অনানুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যা এই বৈঠকের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আরও পড়ুন  গণতন্ত্রের পথে ঐকমত্য প্রয়োজন, মতপার্থক্য নয়: আলী রীয়াজ

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা। অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী হস্তক্ষেপ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা এবং সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের একীভূত হওয়া এসব সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করাই আজ সময়ের দাবি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলোপের পর থেকে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপিসহ কিছু দল দাবি করছে, তারা বহু আগেই সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং সরকারের প্রস্তাবের সঙ্গে তাতে মৌলিক পার্থক্য নেই। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে না, বরং সীমিত সংস্কারের পরেই নির্বাচন দেওয়া উচিত।

প্রশ্ন হলো, কীভাবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব? অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হলো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এমন একটি রূপরেখা তৈরি করা, যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। সরকার ইতোমধ্যে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, যাতে এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ না হয়।

আগের সংলাপগুলো সংক্ষিপ্ত হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ ছিল যে তারা পর্যাপ্ত মতামত জানাতে পারেনি। এবার সেই ভুল না করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে এটাই এখন জনগণের প্রত্যাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক: অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় ১১:০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন। ইতোমধ্যে ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা পড়েছে এবং তা অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে।

রাজনৈতিক মহল এবং বিশেষজ্ঞরা এসব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে মতামত দিচ্ছেন। কেউ এটিকে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সংশয় প্রকাশ করছেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোও সংস্কার নিয়ে অনানুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যা এই বৈঠকের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আরও পড়ুন  গণতন্ত্রের পথে ঐকমত্য প্রয়োজন, মতপার্থক্য নয়: আলী রীয়াজ

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা। অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী হস্তক্ষেপ, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা এবং সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের একীভূত হওয়া এসব সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করাই আজ সময়ের দাবি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলোপের পর থেকে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপিসহ কিছু দল দাবি করছে, তারা বহু আগেই সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং সরকারের প্রস্তাবের সঙ্গে তাতে মৌলিক পার্থক্য নেই। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে না, বরং সীমিত সংস্কারের পরেই নির্বাচন দেওয়া উচিত।

প্রশ্ন হলো, কীভাবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব? অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হলো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এমন একটি রূপরেখা তৈরি করা, যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। সরকার ইতোমধ্যে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, যাতে এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ না হয়।

আগের সংলাপগুলো সংক্ষিপ্ত হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ ছিল যে তারা পর্যাপ্ত মতামত জানাতে পারেনি। এবার সেই ভুল না করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে এটাই এখন জনগণের প্রত্যাশা।