সিলেটে ৬৩ জোড়া তরুণ-তরুণীর গণবিবাহ
- আপডেট সময় ০৯:৫৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 23
সিলেটে এক মানবিক ও ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে ৬৩টি দরিদ্র ও এতিম পরিবারের ১২৬ জন তরুণ-তরুণীর বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন হয়েছে।
গেল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নগরীর আমানউল্লাহ কনভেনশন হলে উৎসবমুখর পরিবেশে এই গণবিবাহের আয়োজন করা হয়। মূলত অর্থাভাবে বিয়ের স্বপ্ন থমকে থাকা অসহায় মানুষদের সামাজিক ও পারিবারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতেই এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
মানবিক সংগঠন ‘সিডস অব ব্লেসিংস’-এর ব্যবস্থাপনায় এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী তরুণদের সংগঠন ‘সিডস অব সাদাকাহ’-এর অর্থায়নে এই বৃহৎ অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়িত হয়। নবদম্পতিদের নতুন জীবনের শুভকামনায় আয়োজনে ছিল আড়ম্বরপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা, যা সাধারণ বিয়ের আমেজকেও ছাড়িয়ে গেছে।
আয়োজক সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, কেবল বিয়ে সম্পন্ন করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল না। নবদম্পতিরা যাতে অভাবমুক্ত থেকে সংসার জীবন শুরু করতে পারেন, সেজন্য তাদের প্রত্যেককে প্রায় দুই লাখ টাকা সমমূল্যের ৭৭ ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী উপহার দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের জীবনযাত্রার প্রাথমিক প্রতিবন্ধকতা অনেকাংশে লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ‘সিডস অব সাদাকাহ’-এর প্রধান মো. জয়নুল আবেদিন তার বক্তব্যে উদ্যোগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা। এই গণবিবাহ সেই নিরন্তর প্রচেষ্টারই একটি সফল বাস্তবায়ন।”
আয়োজকদের অন্যতম সদস্য ডা. ওরাকাতুল জান্নাত এই আয়োজনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে জানান, এটি কেবল একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়, বরং সুবিধাবঞ্চিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার একটি মাধ্যম। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গণবিবাহের এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী নবদম্পতিদের অনেকেই আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা জানান, পারিবারিক অসচ্ছলতা ও অভিভাবকহীনতার কারণে তাদের বিয়ের বিষয়টি অনিশ্চিত ছিল। আজকের এই আয়োজন তাদের একটি নতুন পরিচয় ও সচ্ছলভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
সিলেট নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় সুধী সমাজ এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা মনে করেন, প্রবাসীদের অর্থায়ন ও স্থানীয় সংগঠনের এমন সমন্বয় সমাজের বৈষম্য দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে নবদম্পতিদের সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়।






















