ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ২৬ দিনে প্রাণ হারাল ১৬৬ শিশু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিসে বাংলাদেশের স্বর্ণজয় সংসদ থেকে বিরোধী দলের আবারও ওয়াকআউট: ‘গণবিরোধী’ বিল পাসের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বড় নিয়োগ, আবেদন শেষ ১০ এপ্রিল পুলিশে ২৭০৩ কনস্টেবল নিয়োগ: জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ৩ হাজারের বেশি পাম্পে তেল নেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব, ছুরিকাঘাতে আহত ৩ সেনা কর্মকর্তা ও ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারণা: দেশবাসীকে সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন রুট ঘোষণা; অমান্য করলেই ধ্বংসের হুঁশিয়ারি

দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ২৬ দিনে প্রাণ হারাল ১৬৬ শিশু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 0

ছবি: সংগৃহীত

 

সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু। গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২৬ দিনে হাম নিশ্চিত এবং এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১৬৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৪১ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার (৮ এপ্রিল) ও বৃহস্পতিবারের (৯ এপ্রিল) সর্বশেষ পরিস্থিতির এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের নিশ্চিত সংক্রমণ ও সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এই রোগের লক্ষণ নিয়ে। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।

আরও পড়ুন  পেটের মেদ কমাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন আন্তর্জাতিক আম্পায়ার

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২৩ জন শিশু। অন্যদিকে, হামের সন্দেহজনক লক্ষণে প্রাণ হারিয়েছে আরও ১৪৩ জন। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকেও চিত্রটি ভয়াবহ; গত ২৬ দিনে ২ হাজার ২৪১ জন শিশু নিশ্চিতভাবে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং ১২ হাজার ৩২০ জনের মধ্যে রোগের সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা গেছে।

ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং এর পরেই রয়েছে রাজশাহী বিভাগের অবস্থান। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধুমাত্র ঢাকা বিভাগেই নতুন করে ১৫০ জন শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে সন্দেহজনক লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৫০৪ জন রোগী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে টিকার অভাব বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সংক্রমণের হার এমন দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত শিশুদের জ্বর, গায়ে লালচে দানা এবং শ্বাসকষ্টের মতো জটিল উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। যে সব শিশু এখনও হামের টিকা (এমআর টিকা) নেয়নি, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনে রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার বিষয়েও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

দেশের এই জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নিবিড় তদারকি বাড়াতে বলা হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে বাড়তি শয্যা ও ওষুধের মজুদ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এই নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ২৬ দিনে প্রাণ হারাল ১৬৬ শিশু

আপডেট সময় ০৭:৪৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

 

সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু। গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২৬ দিনে হাম নিশ্চিত এবং এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১৬৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৪১ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার (৮ এপ্রিল) ও বৃহস্পতিবারের (৯ এপ্রিল) সর্বশেষ পরিস্থিতির এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের নিশ্চিত সংক্রমণ ও সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এই রোগের লক্ষণ নিয়ে। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।

আরও পড়ুন  চুয়াডাঙ্গায় ঝড়ে ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২৩ জন শিশু। অন্যদিকে, হামের সন্দেহজনক লক্ষণে প্রাণ হারিয়েছে আরও ১৪৩ জন। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকেও চিত্রটি ভয়াবহ; গত ২৬ দিনে ২ হাজার ২৪১ জন শিশু নিশ্চিতভাবে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং ১২ হাজার ৩২০ জনের মধ্যে রোগের সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা গেছে।

ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং এর পরেই রয়েছে রাজশাহী বিভাগের অবস্থান। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধুমাত্র ঢাকা বিভাগেই নতুন করে ১৫০ জন শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে সন্দেহজনক লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৫০৪ জন রোগী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে টিকার অভাব বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সংক্রমণের হার এমন দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত শিশুদের জ্বর, গায়ে লালচে দানা এবং শ্বাসকষ্টের মতো জটিল উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। যে সব শিশু এখনও হামের টিকা (এমআর টিকা) নেয়নি, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনে রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার বিষয়েও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

দেশের এই জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নিবিড় তদারকি বাড়াতে বলা হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে বাড়তি শয্যা ও ওষুধের মজুদ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এই নজরদারি অব্যাহত থাকবে।