ঘুম ভাঙলেই ফোন হাতে নেওয়া? জানুন আপনার মস্তিষ্কের কী মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে
- আপডেট সময় ০৯:৩১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
- / 19
সকালে চোখ খোলার সাথে সাথেই বালিশের পাশে থাকা স্মার্টফোনটি হাতে নেওয়া আজ এক বৈশ্বিক স্বভাবে পরিণত হয়েছে। অ্যালার্ম বন্ধ করার উছিলায় শুরু হয় ফেসবুক, ইমেইল বা হোয়াটসঅ্যাপের নোটিফিকেশন স্ক্রলিং। আপাতদৃষ্টিতে এই অভ্যাসটিকে নিরীহ মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন যে, এটি শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ এবং মানসিক প্রস্তুতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। ফলে দিনের শুরুটাই হয়ে উঠছে অগোছালো ও চাপপূর্ণ।
ঘুম থেকে ওঠার পর মানব মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়, যাকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় ‘স্লিপ ইনার্শিয়া’ বা ঘুমের জড়তা কাটার ধাপ বলা হয়। এই সংবেদনশীল সময়ে হঠাৎ করে ফোনের মাধ্যমে অতিরিক্ত তথ্য (নোটিফিকেশন, খবর, মেসেজ) গ্রহণ করলে মস্তিষ্কের ওপর অস্বাভাবিক চাপ পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, এর ফলে সারাদিনের মনোযোগ কমে যায় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।
সকালে শরীরকে জাগিয়ে তুলতে স্বাভাবিকভাবেই ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কিছুটা বাড়ে। কিন্তু ঘুম ভাঙার সাথে সাথেই ফোনের স্ক্রিনে কাজ, সমস্যা বা নেতিবাচক খবর দেখলে এই হরমোনের নিঃসরণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এজাহারে বা তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর ফলে অকারণ উদ্বেগ, বিরক্তি এবং তীব্র মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে, যা সারাদিনের মেজাজ নষ্ট করে দেয়।
ফোন স্ক্রলিং করার সময় মস্তিষ্ক ‘ডোপামিন’ নামক একটি রাসায়নিক নিঃসরণ করে, যা তাৎক্ষণিক আনন্দের অনুভূতি দেয়। দিনের শুরুতেই এই সস্তা উদ্দীপনা পেলে মস্তিষ্ক সহজেই দ্রুত আনন্দের প্রতি অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের তুলনায় ফোন ব্যবহার বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়। এটি চূড়ান্তভাবে ব্যক্তির উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয় এবং মনোযোগের অভাব ঘটায়।
পরিবারের দাবি বা ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য ভেবে ফোন ধরলেও বাস্তবে তা দীর্ঘ সময় কেড়ে নেয়। এতে সকালের অপরিহার্য রুটিন—যেমন ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর নাস্তা বা কাজের প্রস্তুতি পিছিয়ে যায়। এছাড়া, ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ অন্ধকার পরিবেশে অভ্যস্ত থাকে, এই সময় হঠাৎ স্ক্রিনের উজ্জ্বল আলো চোখে তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি মস্তিষ্কও হঠাৎ অতিরিক্ত উদ্দীপনায় আক্রান্ত হয়, যা মাথাব্যথা বা শারীরিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
অভ্যাস বদলানোর উপায়: বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
সকালের এই ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন:
স্ক্রিন ফ্রি সময়: ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম ২০–৩০ মিনিট কোনোভাবেই ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাবেন না।
আলাদা অ্যালার্ম ঘড়ি: অ্যালার্মের জন্য ফোনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি সাধারণ টেবিল ঘড়ি ব্যবহার করুন।
সুস্থ রুটিন: সকালে হালকা স্ট্রেচিং, পানি পান বা নিরিবিলি সময় কাটিয়ে দিনটি শুরু করুন।
নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ: শুধুমাত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশন ছাড়া বাকি সব অ্যাপের নোটিফিকেশন সাইলেন্ট রাখুন।
দিনের শুরুটা মূলত মস্তিষ্ক ও শরীরের প্রস্তুতির সময়। এই মূল্যবান সময়টাকে যদি স্ক্রিনের দখলে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে তা দিনের সামগ্রিক গতি, মানসিক অবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

























