ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

২৯ কার্যদিবসে মেহেরপুরে শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • / 82

ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে শাকিল হোসেন (২৪) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দেশজুড়ে আলোচিত ঢাকার শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ঘটনার মধ্যেই মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এই স্পর্শকাতর মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

রবিবার (২৪ মে) দুপুর দেড়টায় মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম আসামির উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা।

আরও পড়ুন  আশুলিয়ায় মৃতদেহ পোড়ানো মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলের মৃত্যুদণ্ড

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার ওই শিশুটি দুপুরে মাঠে তার বাবার জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে শাকিল হোসেন তাকে একা পেয়ে একটি ধারালো হাসুয়া দিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের মাঠের লোকজন ছুটে এলে ধর্ষক শাকিল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে শিশুটি বাড়ি ফিরে তার বাবা-মাকে বিস্তারিত জানালে এলাকার উত্তেজিত জনতা শাকিলের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে ধরে গণপিটুনি দেয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই রাতেই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে শাকিলকে একমাত্র আসামি করে গাংনী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলাটির বিচার কাজ সম্পন্ন হয়। বিচারিক কার্যক্রমে সশরীরে এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমের সহায়তায় মোট ১২ জন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিবেচনা করে আদালত এই রায় প্রদান করেন।

আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন আরও জানান, আদালত আসামি শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তিন লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

একই সাথে বিজ্ঞ বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন যে, জরিমানার এই টাকা প্রয়োজনে দণ্ডিত ধর্ষকের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ আদালতের মাধ্যমে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে পরিশোধ করতে হবে। দ্রুততম সময়ে এমন দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও রাষ্ট্রপক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

২৯ কার্যদিবসে মেহেরপুরে শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৬:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে শাকিল হোসেন (২৪) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দেশজুড়ে আলোচিত ঢাকার শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ঘটনার মধ্যেই মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এই স্পর্শকাতর মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

রবিবার (২৪ মে) দুপুর দেড়টায় মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম আসামির উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা।

আরও পড়ুন  আশুলিয়ায় মৃতদেহ পোড়ানো মামলায় সাবেক এমপি সাইফুলের মৃত্যুদণ্ড

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার ওই শিশুটি দুপুরে মাঠে তার বাবার জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে শাকিল হোসেন তাকে একা পেয়ে একটি ধারালো হাসুয়া দিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের মাঠের লোকজন ছুটে এলে ধর্ষক শাকিল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে শিশুটি বাড়ি ফিরে তার বাবা-মাকে বিস্তারিত জানালে এলাকার উত্তেজিত জনতা শাকিলের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে ধরে গণপিটুনি দেয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই রাতেই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে শাকিলকে একমাত্র আসামি করে গাংনী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলাটির বিচার কাজ সম্পন্ন হয়। বিচারিক কার্যক্রমে সশরীরে এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমের সহায়তায় মোট ১২ জন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিবেচনা করে আদালত এই রায় প্রদান করেন।

আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন আরও জানান, আদালত আসামি শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তিন লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

একই সাথে বিজ্ঞ বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন যে, জরিমানার এই টাকা প্রয়োজনে দণ্ডিত ধর্ষকের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ আদালতের মাধ্যমে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে পরিশোধ করতে হবে। দ্রুততম সময়ে এমন দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও রাষ্ট্রপক্ষ।