ঢাকা ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
রামেক হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বসছে একক ‘অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার’ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ আজ নাটোরে ৪৫ টাকা চা বিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২ মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত, আহত ১৫ শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের যাতায়াত সহজে বিশেষ বাস সেবা চালু ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত

২৯ কার্যদিবসে মেহেরপুরে শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • / 98

ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে শাকিল হোসেন (২৪) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দেশজুড়ে আলোচিত ঢাকার শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ঘটনার মধ্যেই মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এই স্পর্শকাতর মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

রবিবার (২৪ মে) দুপুর দেড়টায় মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম আসামির উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা।

আরও পড়ুন  চকরিয়ায় চুরি করতে গিয়ে পুলিশের স্ত্রীকে ধর্ষণ, আটক ১

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার ওই শিশুটি দুপুরে মাঠে তার বাবার জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে শাকিল হোসেন তাকে একা পেয়ে একটি ধারালো হাসুয়া দিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের মাঠের লোকজন ছুটে এলে ধর্ষক শাকিল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে শিশুটি বাড়ি ফিরে তার বাবা-মাকে বিস্তারিত জানালে এলাকার উত্তেজিত জনতা শাকিলের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে ধরে গণপিটুনি দেয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই রাতেই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে শাকিলকে একমাত্র আসামি করে গাংনী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলাটির বিচার কাজ সম্পন্ন হয়। বিচারিক কার্যক্রমে সশরীরে এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমের সহায়তায় মোট ১২ জন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিবেচনা করে আদালত এই রায় প্রদান করেন।

আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন আরও জানান, আদালত আসামি শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তিন লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

একই সাথে বিজ্ঞ বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন যে, জরিমানার এই টাকা প্রয়োজনে দণ্ডিত ধর্ষকের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ আদালতের মাধ্যমে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে পরিশোধ করতে হবে। দ্রুততম সময়ে এমন দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও রাষ্ট্রপক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

২৯ কার্যদিবসে মেহেরপুরে শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৬:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে শাকিল হোসেন (২৪) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দেশজুড়ে আলোচিত ঢাকার শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ঘটনার মধ্যেই মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এই স্পর্শকাতর মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

রবিবার (২৪ মে) দুপুর দেড়টায় মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম আসামির উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা।

আরও পড়ুন  মার্চে ধর্ষণের শিকার ১৬৩, নির্যাতিত ৪৪২ নারী

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার ওই শিশুটি দুপুরে মাঠে তার বাবার জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে শাকিল হোসেন তাকে একা পেয়ে একটি ধারালো হাসুয়া দিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের মাঠের লোকজন ছুটে এলে ধর্ষক শাকিল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে শিশুটি বাড়ি ফিরে তার বাবা-মাকে বিস্তারিত জানালে এলাকার উত্তেজিত জনতা শাকিলের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে ধরে গণপিটুনি দেয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই রাতেই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে শাকিলকে একমাত্র আসামি করে গাংনী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলাটির বিচার কাজ সম্পন্ন হয়। বিচারিক কার্যক্রমে সশরীরে এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমের সহায়তায় মোট ১২ জন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিবেচনা করে আদালত এই রায় প্রদান করেন।

আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন আরও জানান, আদালত আসামি শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তিন লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

একই সাথে বিজ্ঞ বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন যে, জরিমানার এই টাকা প্রয়োজনে দণ্ডিত ধর্ষকের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ আদালতের মাধ্যমে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে পরিশোধ করতে হবে। দ্রুততম সময়ে এমন দৃষ্টান্তমূলক রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও রাষ্ট্রপক্ষ।