বিগত সরকারের আমলে আস্থভাজন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা কে কোথায়?
- আপডেট সময় ১০:০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
- / 31
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপুটে ও প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এক সময়ের ক্ষমতাধর পুলিশ কর্মকর্তাদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত কয়েক মাসে দৃশ্যপট আমূল বদলে গেছে। এক সময় যাদের নির্দেশে দেশ চলত, তাদের কেউ এখন আদালতের রায়ে জেল খাটছেন, আবার কেউ গ্রেফতার এড়াতে বিদেশের মাটিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও দেশের বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যা ও নাশকতার অসংখ্য মামলা এখন চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোচ্ছে।
সাবেক আইজিপি চৌধূরী আব্দুল্লাহ আল মামুন: তিনি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল মামলায় রাজস্বাক্ষী হওয়ায় কারনে আদালত ৫ বছরের কারাদন্ড সাজা প্রাপ্ত হয়। অন্য দিকে একই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল এর মৃত্যুদন্ডের রায় দেয়া হয়।
সাবেক এসবির চীফ মোঃ মনিরুল ইসলাম: ৫ই আগস্ট ২০২৪ পরে অনেক গুলো থানায় কয়েক ডজন মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে সরকার ও পুলিশ প্রশাসন তাকে খুঁজছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় বর্তমানে সে দেশের বাইরে পলাতক রয়েছে।
সাবেক ডিএমপির কমিশনার মোঃ হাবিবুর রহমান: আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল একটি মামলায় মৃত্যুদন্ড রায় ঘোষনা করেছেন। এছাড়া তার নামে শতাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে সরকার ও পুলিশ প্রশাসন তাকে খুঁজছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় বর্তমানে সে দেশের বাইরে পলাতক রয়েছে।
সাবেক ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ সৈয়দ নুরুল ইসলাম: তিনি ঢাকা মহানগরের চারপাশের অধিক গুরুত্বপূর্ণ ১৩ টি জেলার দায়িত্বে ছিলেন। কয়েকটি জেলায় ব্যাপক ধ্বংসাত্মক ঘটনা, অগ্নি সংযোগ ও ক্ষয়ক্ষতি এবং নরসিংদী জেলায় জেলখানা লুটের মত ঘটনা ঘটে। যতটুকু জানা যায় ৫ই আগস্ট/২০২৪ ঘটনায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর, গাজীপুর, টাংগাইল, মুন্সীগঞ্জ এবং মাদারীপুর জেলায় প্রায় ১৫০ টির উপরে মামলা হয়েছে যার অধিকাংশ মামলায় সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম আসামি। এছাড়াও ঢাকা মহানগর ডিএমপি এরিয়ার বিভিন্ন থানায় মোট ১৫ টি হত্যা মামলার আসামী করা হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জ আওতাধীন ঢাকা জেলার আশুলিয়ার থানার ০১টি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদানের রায় ঘোষণা করেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় বর্তমানে সে দেশের বাইরে পলাতক রয়েছে।
সৈয়দ নুরুল ইসলাম পুলিশ এর ডিআইজির পাশাপাশি আরও একটি পরিচয় আছে, সে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র জীবনের পুরো সময় আওয়ামীলীগের ( কার্যক্রম নিষিদ্ধ )ছাত্র সংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের’ ( নিষিদ্ধ সংগঠন )ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের ছাত্রলীগের সভাপতি এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহপাঠাগার সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। এছাড়াও তার পুরো পরিবার আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তার মেজ ভাই সৈয়দ নজরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন এবং এখনও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং ছোট ভাই সৈয়দ মনিরুল ইসলাম আওয়ামী লীগ মনোনীত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। ৫ই আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ে সবাই নিজ এলাকা ছাড়া।
ডিবি হারুন: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সর্বাধিক আলোচিত/সমালোচিত সাবেক ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে সারা দেশে এ পর্যন্ত ১৭১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এক সময়ের প্রভাবশালী এই কর্মকর্তা এখন পলাতক ও বিচার চলমান ।
বিপ্লব বিজয় তালুকদার: রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাবেক কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনিও আত্মগোপনে আছেন এবং ধারণা করা হয়, তিনিও দেশের বাইরে পলাতক।
বিপ্লব কুমার সরকার: ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) বিপ্লব কুমার সরকারের নামে অসংখ্য মামলা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে; আদালত বিপ্লব কুমার এবং তার স্ত্রীর নামে থাকা ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।তার ওপর দেশত্যাগে কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
সুদীপ চক্রবর্তী: ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুলে ৬ জনকে হত্যার দায়ে গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন । ফাঁসির আদেশর পাশাপাশি সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দেরও নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে এই কর্মকর্তা পলাতক রয়েছেন।
প্রলয় কুমার জোয়ারদার: পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার ৫ আগস্টের পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। যশোরের সাবেক এই এসপি ও সিটিটিসি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে।
উপরোক্ত আসামিদের পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে এবং একাধিক মামলায় তাদের মৃত্যুদণ্ড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ।























